Monday, 29 June, 2026

তুলা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে বরেন্দ্র অঞ্চলে


বরেন্দ্র অঞ্চলের উঁচু জমিতে ধান ও সবজি চাষের প্রবণতা কমে গেছে সেচ সংকটের কারণে। এ অঞ্চলে কৃষকদের মধ্যে এখন তুলা চাষে কৃষকদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কম সেচ ও বৃষ্টির পানিতে কাজ হয়। তাই তুলা চাষে ঝুঁকছেন অনেক  চাষিরা। এটির চাষ লাভজনক বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

তুলা চাষে আগ্রহ

আরো পড়ুন
সস্তা সিন্থেটিক ফাইবারের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চাপে বাংলাদেশের পাটপণ্য: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী
সস্তা সিন্থেটিক ফাইবারের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চাপে বাংলাদেশের পাটপণ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে স্বল্পমূল্যের সিন্থেটিক ফাইবারের বিশ্বব্যাপী সহজলভ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান ব্যবহার বাংলাদেশের পাটপণ্যের জন্য একটি বড় সংকট সৃষ্টি করেছে। এটি Read more

ক্ষতিকর জাল উৎপাদন বন্ধের কঠোর নির্দেশ মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর: জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও বিশেষ কার্ডের ঘোষণা
ক্ষতিকর জাল উৎপাদন বন্ধের কঠোর নির্দেশ মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী সব ধরনের ক্ষতিকর জাল উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও Read more

বিঘায় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করা যায় যদি ফলন ভালো হয়।

আষাঢ় মাসের বৃষ্টির পানিতে বীজ বপন করা হয়।

অগ্রহায়ণ মাসে ঘরে তোলা যায় তুলা।

বরেন্দ্র অঞ্চলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, গোমস্তাপুর ও নওগাঁর পোরশায় তুলা উন্নয়ন বোর্ডের তালিকাভুক্ত ২১০ জন চাষি প্রায় ৪০০ বিঘা জমিতে তুলার চাষ করছেন।

তুলার চাষ কেবল মাত্র ৮০০ মিলিমিটার পানিতেই সম্ভব।

এর ফলে তুলা চাষ পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার পূর্ব লক্ষ্মণপুর গ্রামের সাঁওতাল যুবক জুসেন টুডু।

তাঁর এক মামা রুবেল বাসকি ও নানি মণি মুরমুকে নিয়ে চার বছর থেকে তুলার চাষ করছেন।

প্রায় আট বিঘা জমিতে তুলার চাষ করছেন তারা।

তিনি জানান যে, প্রথম বছর খুব একটা লাভ পাননি।

কিন্তু দুই বছর ধরে এক লাখ টাকার বেশি লাভ হয়েছে তাদের।

কৃষি বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্সে অধ্যয়নরত জুসেন টুডু।

তিনি আরও বলেন, উঁচু বরেন্দ্রভূমিতে এক বিঘা জমিতে ধান চাষে পাঁচ হাজার টাকা লাভ করাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তুলা চাষ করে সেখানে সহজেই ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা লাভ করা যায়।

তুলার দাম গত বছর ছিল ২ হাজার ৭০০ টাকা মণ।

এ বছর প্রতি মণ ৩ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছে তুলা।

তুলার বীজ জুলাই মাসে বৃষ্টির পানিতে বপন করেছেন।

এরপর আর সেচ দেবার প্রয়োজন হয়নি।

ডিসেম্বরেই তিনি তুলার ফলনের আশা করছেন।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নাচোল ইউনিটের কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ বর্মণ।

তিনি জানান যে, উপজেলায় তুলা চাষের সঙ্গে ৪৮ জন চাষি জড়িত।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের চাঁপাইনবাবগঞ্জ কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম।

তার সঙ্গে তুলার চাষ নিয়ে কথা হয়।

তিনি জানান, এক কেজি বোরো ধান উৎপাদন করতে তিন থেকে চার হাজার লিটার পানি লাগে।

সেখানে তুলা চাষ সম্ভব ৭০০ থেকে ৮০০ মিলিমিটার পানিতেই।

বরেন্দ্র অঞ্চলের উঁচু জমিতে তাই পরিবেশের জন্য খুবই উপকারী তুলা চাষ।

0 comments on “তুলা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে বরেন্দ্র অঞ্চলে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ