Tuesday, 16 June, 2026

আমনের ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় খুলনা জেলার চাষিরা


আমনের ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় খুলনা অঞ্চলের  কৃষকরা। জেলার মাঠে মাঠে দুলছে রোপা আমনের শীষ। চারিদিক ম ম করছে সোনালি ধানের গন্ধে। কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ঝরেছে এ পর্যন্ত আসতে। আমনের শীষ কৃষকের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। কিন্তু সেই হাসির মধ্যে চিন্তার ভাঁজ ফেলতে শুরু করেছে বিরূপ আবহাওয়া।

আবহাওয়া অধিদপ্তর চলতি মাসেই প্রচণ্ড ঝড় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।

তাতেই চিন্তা বেড়ে গেছে কৃষকের।

আরো পড়ুন
ক্ষতিকর জাল উৎপাদন বন্ধের কঠোর নির্দেশ মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর: জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও বিশেষ কার্ডের ঘোষণা
ক্ষতিকর জাল উৎপাদন বন্ধের কঠোর নির্দেশ মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী সব ধরনের ক্ষতিকর জাল উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও Read more

গোবিন্দগঞ্জে ‘চিউন’ আখের বাম্পার ফলন: তীব্র গরমে রসের চড়া চাহিদা
গোবিন্দগঞ্জে ‘চিউন’ আখের বাম্পার ফলন: তীব্র গরমে রসের চড়া চাহিদা

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে চিবিয়ে ও রস করে খাওয়ার বিশেষ ‘চিউন’ জাতের আখের আশানুরূপ ফলন হয়েছে। বাজারে বর্তমানে এই Read more

কৃষি কর্মকর্তারাও বলছেন একই ধরনের কথা।

বেশ ভালো ফলন হবে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত না হানলে।

কৃষি অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে রোপা আমন আবাদ হয়েছে মেট্রোসহ জেলার নয় উপজেলায়। প্রায় ৯৩ হাজার ৩১৬ হেক্টর জমিতে এ আবাদ হয়। এর  বিপরীতে ৯২ হাজার ৭৩০ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এতে গত বছরের তুলনায় উৎপাদন বেশি হবে এমন সম্ভাবনা আছে।

কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, খুলনা জেলার রূপসায় ৩ হাজার ৮৯০ হেক্টর, বটিয়াঘাটায় ১৭ হাজার ৬০০ হেক্টর।

দিঘলিয়ায় ১ হাজার ৯২০ হেক্টর, ডুমুরিয়ায় ১৫ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়।

পাইকগাছায় আবাদ হয় ১৭ হাজার ২৫৩ হেক্টর, তেরখাদায় ৯০৫ হেক্টর, দাকোপে ১৯ হাজার ১৩৫ হেক্টর।

কয়রায় ১৪ হাজার ৭২০ হেক্টর এবং ফুলতলায় ১ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়।

দৌলতপুরে ৬৭ হেক্টর ও লবণচরায় ২০০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে।

গত বছর মোট ৯২ হাজার ৮২০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছিল। যার বিপরীতে ৯২ হাজার ৫২০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো।

খুলনা জেলা বারবার প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত।

ভাঙ্গন কবলিত দক্ষিন বেদকাশির চাষিরা জানান যে আইলার পর থেকে বেশ কয়েক বছর ভালো ফলন হয়।

কিন্তু পিছু ছাড়ে না প্রাকৃতি দুর্যোগ।

ফসল তোলার আগেই কোনো না কোনো দুর্যোগ দেখা দেয়।

কৃষি অধিদপ্তর খুলনার পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান।

তিনি আশাবাদী যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ  না হলে খুলনায় রোপা আমনের প্রত্যাশিত ফলনের সম্ভাবনা আছে।

রূপসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ফরিদ উজ জামান।

তার মতে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রোপা আমন আবাদে বাম্পার ফলন আশা করা যায়।

পোকামাকড় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সকল ব্যবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত অবগত করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।

পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে আলোর ফাঁদ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উঠান বৈঠকও করা হচ্ছে কৃষকদের সাথে।

0 comments on “আমনের ফলন নিয়ে দুশ্চিন্তায় খুলনা জেলার চাষিরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ