Wednesday, 29 April, 2026

লবণাক্ত মুরুভূমিতে ভূট্রা ও ধান চাষ: শ্যামনগরে কৃষিতে বিপ্লব


শ্যামনগরে কৃষিতে বিপ্লব ঘটাচ্ছেন শিলা ও রুহুল

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় লবণাক্ত ধূসর জমিতে এখন সবুজের সমারোহ। যেখানে নোনা পানির দাপটে বছরের অধিকাংশ সময় জমি পতিত পড়ে থাকত, সেখানে এখন দোল খাচ্ছে ভুট্টা ও উচ্চফলনশীল ধান। উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের হাওয়ালভাঙি গ্রামে ১০ মাত্রার তীব্র লবণাক্ত জমিতে পরীক্ষামূলক চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় কৃষক শিলা রাণী ও রুহুল আমিন। তাদের এই সাফল্য উপকূলীয় কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।

সাফল্যের নেপথ্যে ‘ডিবলিং’ পদ্ধতি

এলাকায় প্রথমবারের মতো ‘ডিবলিং’ পদ্ধতিতে ভুট্টা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই কৃষকরা। এই পদ্ধতিতে জমি চাষ না দিয়েই নির্দিষ্ট দূরত্ব ও গভীরতায় গর্ত করে বীজ রোপণ করা হয়, যা উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকদের উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। ৩ একর জমিতে ডিবলিং পদ্ধতিতে ভুট্টা ছাড়াও বিনাধান-১০ ও ব্রিধান-৯৯ চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন তারা।

আরো পড়ুন
লাভজনক মরিচ চাষ: আধুনিক পদ্ধতি ও সতর্কতা
লাভজনক মরিচ চাষের জন্য করনীয় ও বর্জনীয়

মরিচ বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক ফসল। তবে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ না করলে এই লাভ শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকতে Read more

সুনামগঞ্জে উপরের পানিতে মোনাই নদীর তীর ধস, ইরানবিল হাওরে পানি প্রবেশ, ফসলের ক্ষতি
মোনাই নদীর তীর ধসে ইরানবিল হাওরে পানি ঢুকছে, ধানক্ষেতের আংশিক ক্ষতি—সুনামগঞ্জের মোহনগঞ্জ

সুনামগঞ্জের মোহনগঞ্জ উপজেলায় উজানের প্রবল স্রোতের চাপে মোনাই নদীর তীরবর্তী অংশ ধসে ইরানবিল (ইকরছাই) হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে Read more

কৃষক শিলা রাণী বলেন, “আগে এই জমিতে নোনা পানির জন্য কিছুই হতো না। বিজ্ঞানীরা আমাদের বুদ্ধি ও বীজ দিলেন। ডিবলিং পদ্ধতিতে খরচ কম হওয়ায় আমরা লাভবান হচ্ছি।” রুহুল আমিনের কণ্ঠেও একই আশার সুর—”সহায়তা পেলে আগামীতে আরও বেশি জমিতে চাষ করব।”

মাঠ দিবসে বিজ্ঞানীদের আশাবাদ

এই সাফল্য উদযাপন ও কৃষকদের উৎসাহিত করতে ২৫ এপ্রিল বিকেলে হাওয়ালভাঙি গ্রামে এক ‘মাঠ দিবস’ অনুষ্ঠিত হয়। বিনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মিলন কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) সিএসও ড. মো. হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, “উপকূলীয় অঞ্চলের পতিত জমিকে উৎপাদনের আওতায় আনতে পারলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।”

বিনা উপকেন্দ্র সাতক্ষীরার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. কামরুজ্জামান জানান, ধান কাটার পর জমি ফেলে না রেখে সরাসরি ডিবলিং পদ্ধতিতে চারা রোপণ করা যায়। এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর।

উপকূলীয় কৃষিতে রূপান্তর

বিএআরসির অর্থায়নে এবং সাতক্ষীরার বিনা উপকেন্দ্রের বাস্তবায়নে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এই প্রকল্প পরিচালনা করছে। স্থানীয় কৃষি অফিসার ওয়ালিউল ইসলাম জানান, কৃষকদের মাঝে এখন আগ্রহ বাড়ছে। শ্যামনগরসহ পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে এই মডেল ছড়িয়ে দিতে পারলে হাজার হাজার বিঘা পতিত জমি আবাদি হয়ে উঠবে।

0 comments on “লবণাক্ত মুরুভূমিতে ভূট্রা ও ধান চাষ: শ্যামনগরে কৃষিতে বিপ্লব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ