
সুনামগঞ্জের মোহনগঞ্জ উপজেলায় উজানের প্রবল স্রোতের চাপে মোনাই নদীর তীরবর্তী অংশ ধসে ইরানবিল (ইকরছাই) হাওরে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। এতে দাঁড়িয়ে থাকা ফসলের আংশিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) সকালে বংশীকুণ্ড দক্ষিণ ইউনিয়নের হামিদপুর গ্রামের কাছে মোনাই নদীর পাড়ে এ ধসের ঘটনা ঘটে। মোনাই নদীটি সুরেশ্বরী নদীর একটি উপনদী।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, মোনাই নদীতে পানির চাপ বৃদ্ধি পেয়ে হামিদপুর গ্রামের পাশের একটি গ্রামীণ সড়ক ভেঙে যায়—যার মধ্য দিয়ে হাওর এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করছে।
ফসলের অবস্থা কী?
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, ইরানবিল হাওরের মোট আয়তন ১১৪ হেক্টর। এর মধ্যে প্রায় ৪০ হেক্টর জমির ধান ইতিমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে মাত্র ৫ থেকে ১০ হেক্টর ফসল মাঠে আছে, যা প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
ধস কীভাবে ঘটল?
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, “এটি ফসল রক্ষার বাঁধ নয়; বরং এটি একটি জলাশয়ের পাশের সড়ককাঠামো। তবে এর তীর ঘেঁষে কিছু ধানের জমি থাকতে পারে।”
মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় ঘোষ জানান, ভাঙা কাঠামোটি পাউবোর কোনো বাঁধ নয়, বরং এটি একটি গ্রামীণ সড়ক। নেত্রকোনার দুর্গাপুর হয়ে ওপর দিক থেকে নেমে আসা পানির চাপেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাঁধ মেরামতে স্থানীয় উদ্যোগ
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে ভাঙা সড়কটি মেরামত ও আরও পানি প্রবেশ রোধে কাজ করছেন।
ইরানবিল হাওরে এ মুহূর্তে যতটুকু ফসল মাঠে আছে (প্রায় ৫-১০ হেক্টর), তা পানির নিচে চলে গেছে। তবে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা এখনই করছে না প্রশাসন, কারণ অধিকাংশ ফসল আগেই উঠে এসেছে।

