
দেশের টেক্সটাইল মিলগুলোতে চাহিদার অভাব এবং চলমান অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে তুলা আমদানি। সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে গত এক বছরের ব্যবধানে তুলা আমদানির পরিমাণ প্রায় অর্ধেক বা ৪৭ শতাংশ কমেছে। আমদানিকারকরা বলছেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কাঁচামাল কেনা কমিয়ে দিয়েছে।
আমদানির পরিসংখ্যান: এক বছরে বড় পতন
ভোমরা কাস্টম হাউসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) এই বন্দর দিয়ে মাত্র ৮১৩ টন কাঁচা তুলা আমদানি হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
অথচ গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫৫৬ টন, যার মূল্য ছিল ৮৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে আমদানি কমেছে ৭৪৩ টন।
ভারতে দাম কমলেও কেন কমছে আমদানি?
বিস্ময়কর বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশ ভারতে তুলার দাম গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। ব্যবসায়ীরা জানান:
গত বছর ভারতে প্রতি পাউন্ড কাঁচা তুলা ১১৪ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯৫ টাকায়।
পাউন্ডপ্রতি ১৯-২০ টাকা দাম কমার পরও আমদানিতে গতি ফিরছে না।
ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের বক্তব্য
ভোমরা বন্দরের তুলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুন্দরবন এজেন্সির স্বত্বাধিকারী পরিতোষ কুমার জানান, মূলত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে স্থানীয় মিলগুলোতে তুলার চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে মিল মালিকরা নতুন করে কাঁচামাল সংগ্রহে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
সংকটে পোশাক ও সুতা উৎপাদনকারী খাত
সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত দেড় বছর ধরে দেশের পোশাক ও সুতা উৎপাদনকারী শিল্পগুলো বহুমুখী সংকটের মোকাবিলা করছে। জ্বালানি সংকট, ব্যাংকিং জটিলতা এবং ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার ফলে উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় প্রধান কাঁচামাল হিসেবে তুলা আমদানির গ্রাফও নিম্নমুখী।
এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশীয় বস্ত্র শিল্পের ওপর নির্ভর করা লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

