
দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বৃদ্ধি এবং হারিয়ে যাওয়া প্রজনন ক্ষেত্রগুলো রক্ষায় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এজন্য দেশের বিভিন্ন হাওর, বাঁওড়, নদীনালা এবং সমুদ্রে নতুন মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হচ্ছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (BARC) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক মৎস্য গবেষণাবিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI)।
প্রাকৃতিক মাছ রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ নির্দেশ
মাছে-ভাতে বাঙালির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা ও মৎস্য খাতের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “অতীতের মানসম্মত গবেষণার ফলেই বাংলাদেশ আজ মাছে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। চাষের মাছের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও গুণগত মানে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব ও অসচেতনতার কারণে আমাদের প্রাকৃতিক মাছের প্রজনন ক্ষেত্রগুলো আজ ধ্বংসের মুখোমুখি।”
তিনি আরও জানান, এই সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় চলতি বছর থেকেই পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার।
গবেষক ও বিজ্ঞানীদের প্রতি মন্ত্রীর ৫টি বিশেষ নির্দেশনা
অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষক ও বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে সুনির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা দেন মৎস্য মন্ত্রী: ১. দেশি জাত পুনরুদ্ধার: হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছের প্রজনন, জাত উন্নয়ন এবং পুনরুদ্ধারে গবেষণা আরও জোরদার করা। ২. জলবায়ু ও রোগ মোকাবিলা: জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব সামাল দেওয়া এবং মানসম্মত পোনা উৎপাদনের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ নিশ্চিত করা। ৩. সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবহার: উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সম্ভাবনার পূর্ণ ব্যবহার করা। ৪. সচেতনতা বৃদ্ধি: ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধে কেবল আইন প্রয়োগ নয়, সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা গড়ে তোলা। ৫. নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন: মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদানমুক্ত খাদ্য ব্যবহার নিশ্চিত করে নিরাপদ মাছ উৎপাদন করা।
মান অক্ষুণ্ণ রেখেই মৎস্য রপ্তানি
আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় মাছের চাহিদা পূরণে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আমিন উর রশিদ বলেন, আগামী দিনে বিদেশে পর্যাপ্ত মাছ রপ্তানির লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে মাছের গুণগত মানের বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না।
পানির মান ভালো না হলে মাছের স্বাদ রক্ষা কঠিন: প্রতিমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, “বর্তমানে আগের মতো মাছের স্বাদ পাওয়া যায় না, কারণ পানির গুণগত মান খারাপ হয়ে গেছে। মাছ বেড়ে ওঠার প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারলেই মৎস্য খাতকে সম্পূর্ণ সমৃদ্ধ করা সম্ভব।”
মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মো. লতিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ কনক।

