Friday, 20 March, 2026

কাপ্তাই হ্রদে মাছের বাম্পার ফলন, রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড


মাছ ধরার জন্য দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর খুলে দেওয়া হয়েছে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদ। আর মাত্র সাত দিনেই এই হ্রদে মিলেছে মাছের বাম্পার ফলন। ফলে রাজস্ব আয়ে তৈরি হয়েছে নতুন রেকর্ড। গত ২ আগস্ট থেকে মাছ ধরা শুরু হওয়ার পর থেকে সব ধরনের মাছের উৎপাদন ব্যাপক হারে বেড়েছে।

এ পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদ থেকে আহরিত মাছের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৯৫ মেট্রিক টন। এতে রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

মৎস্যজীবীদের মুখে হাসি

আরো পড়ুন
জামালপুরে ৬ হাজার কৃষকের জন্য আউশ ধানের প্রণোদনা বরাদ্দ
কৃষি অধিদপ্তর আউশ ধান চাষের জন্য প্রণোদনা

কৃষি অধিদপ্তর একটি কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির অধীনে জেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে আউশ ধান চাষের জন্য প্রণোদনা বিতরণ করবে। Read more

মামলা প্রত্যাহার শর্তে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ১২ লাখ কৃষকের কৃষিঋণ মুক্তির টাকা দেবে সরকার
কৃষকদের মামলা প্রত্যাহারের শর্তে ঋণখেলাপি পরিশোধ করবে সরকার

যেসব কৃষকের ঋণ মুক্তি করা হয়েছে, তাদের ব্যাংকে পাওনা টাকা ও সুদ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এর শর্ত হিসেবে Read more

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদ বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্র। এটি দেশের মিঠা পানির মাছের ভান্ডার হিসেবেও পরিচিত। এই হ্রদের মাছ শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, চট্টগ্রাম ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রপ্তানিও করা হয়। এই মাছের ওপর নির্ভরশীল ২৬ হাজার মৎস্যজীবী পরিবার।

মৎস্যজীবীরা বলছেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময়ে হ্রদে বিপুল পরিমাণ পোনা ছাড়া হয়েছিল এবং মাছের প্রাকৃতিক প্রজননও হয়েছে প্রচুর। ফলে এবার প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সরকারের রাজস্ব যেমন বাড়ছে, তেমনি মৎস্যজীবীরাও লাভবান হচ্ছেন।

চ্যালেঞ্জ এবং শুল্ক বৃদ্ধি

রাঙামাটি ফিশারি ঘাট সমবায় সমিতির অর্থ সম্পাদক মো. পান্না মিয়া জানান, মাছ আহরণ বাড়লেও প্যাকেজিংয়ের জায়গার সংকট একটি বড় সমস্যা। পল্টনের বাইরে বিএফডিসি চত্বরে মাছ প্যাকেট করতে হচ্ছে, যা বেশ কষ্টসাধ্য। একই সঙ্গে মাছ ধরা শুরু হতে না হতেই শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা অযৌক্তিক বলে তিনি মনে করেন।

অন্যদিকে, রাঙামাটি মৎস্য উন্নয়ন অধিদপ্তরের উন্নয়ন ও বিপণী কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মো. ফয়েজ আল করিম বলেন, মাছের সুষ্ঠু প্রজনন এবং বংশ বিস্তারের কারণেই এবার বাম্পার ফলন সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, রাঙামাটি বিএফডিসি প্রতি তিন বছর পর শুল্কের পরিমাণ পরিবর্তন করে এবং এবারও তা কিছুটা বাড়ানো হয়েছে, তবে তা খুব বেশি নয়।

কাপ্তাই হ্রদে ৭৩টি দেশীয় এবং ৬টি বিদেশি প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। মৎস্য কর্মকর্তারা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে।

0 comments on “কাপ্তাই হ্রদে মাছের বাম্পার ফলন, রাজস্ব আয়ে নতুন রেকর্ড

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ