Tuesday, 18 August, 2026

কাঁচা পাট রপ্তানির অনুমতি পেল ১৮ প্রতিষ্ঠান: ৬ হাজার ৩৭৭ টন যাচ্ছে বিদেশে


দেশের কাঁচা পাট খাতের জন্য নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বিশেষ বিবেচনায় দেশের ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৬ হাজার ৩৭৭ টন কাঁচা পাট রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। মূলত আমদানিকারকদের কাছ থেকে আগেই টিটি (টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার) বা অগ্রিম অর্থ পাওয়ায় এই বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

রপ্তানি কার্যক্রম সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার প্রধান আমদানি-রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।

ভারতে যাচ্ছে বড় অংশ: আমদানিকারক দেশসমূহ

আরো পড়ুন
দেশের অব্যবহৃত জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে বন্টন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও কর্মসংস্থানমুখী করতে সরকারি জলমহাল, অব্যবহৃত পুকুর, হাওর-বাঁওড় ও জলাশয় সংস্কার করে স্থানীয় বেকার Read more

জনবল সংকট ও জরাজীর্ণ অবস্থা: মৌলভীবাজার সরকারি মৎস্য বীজ খামারে ধস

মৌলভীবাজার জেলার মৎস্যচাষীদের উন্নত ও গুণগত মানের মাছের পোনা সরবরাহের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত সরকারি ‘মৌলভীবাজার মৎস্য বীজ উৎপাদন খামার’ চরম জনবল Read more

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই অনুমতির বড় একটি অংশ ভারতে রপ্তানি করা হবে। বাংলাদেশ সাধারণত যে দেশগুলোতে কাঁচা পাট রপ্তানি করে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  • ভারত (প্রধান আমদানিকারক)

  • চীন

  • পাকিস্তান

  • তুরস্ক

  • মিসর

  • নেপাল

অনুমতি প্রাপ্ত ১৮টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা ও বরাদ্দ

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানই নির্ধারিত বরাদ্দের অতিরিক্ত পাট রপ্তানি করতে পারবে না। উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা নিচে দেওয়া হলো:

প্রতিষ্ঠানের নামবরাদ্দের পরিমাণ (টন)
তাসফিয়া জুট ট্রেডিং১,৭৪০ টন (সর্বোচ্চ)
ঢাকা ট্রেডিং হাউস৮০০ টন
সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল৭৯০ টন
এম এন জুট ট্রেডিং৫৭০ টন
মেসার্স রশ্মি কবির৪০০ টন
মুসা জুট ফাইবার৩০০ টন
গাজী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল৬০ টন (সর্বনিম্ন)

অন্যান্য প্রতিষ্ঠান: এ জেড জুট ট্রেডিং, এস এস ট্রেডিং, মেসার্স সুকুমার সরকার, জুট ইমপেক্স, সোনালী ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, মেসার্স আর এস ট্রেডার্স, তৌফিক জুট ট্রেডিং, মেসার্স শরীফ আহমেদ, বিডি গোল্ড ফাইবার, হুসনা জুট ফাইবার এবং মেসার্স এম ডি আবুল কাসেম।

কেন এই বিশেষ অনুমতি?

অন্তর্বর্তী সরকারের গত ৯ সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে কাঁচা পাট রপ্তানি করতে সরকারের পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক। তবে এই ১৮টি প্রতিষ্ঠান নীতিমালার আগে থেকেই বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে ব্যাংকিং চ্যানেলে (TT) অর্থ গ্রহণ করেছিল।

এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানান:

“নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে এবং সরকারের অনুমতি নিয়েই পাট রপ্তানি করতে হবে। তবে এই প্রতিষ্ঠানগুলো আগেই টাকা গ্রহণ করায় তাদের পণ্য পাঠানোর অনুমতি দিতে হয়েছে।”

রপ্তানির সময়সীমা ও শর্তাবলি

মন্ত্রণালয় শর্ত দিয়েছে যে, অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে চলতি বছরের অক্টোবর মাসের মধ্যে রপ্তানির সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

প্রেক্ষাপট ও শিল্পের উদ্বেগ

রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭ সংশোধন করে কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত পণ্য তালিকার ১৯ নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন কাঁচা পাট রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছিল।

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তাপস প্রামাণিক এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, “কাঁচা পাট রপ্তানি একধরনের বিলাসিতা। আমাদের প্রতি মণ পাট ৫ হাজার টাকায় কিনে কারখানা চালাতে হচ্ছে। আমরা রপ্তানি বন্ধের আবেদন করেছিলাম।”

উল্লেখ্য, গত ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে মোট ১০ লাখ বেল কাঁচা পাট রপ্তানি হয়েছে।

0 comments on “কাঁচা পাট রপ্তানির অনুমতি পেল ১৮ প্রতিষ্ঠান: ৬ হাজার ৩৭৭ টন যাচ্ছে বিদেশে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ