বাংলাদেশ বর্তমানে মাছের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করেছে উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, এখন মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক বাজারে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি বহুগুণ বৃদ্ধি করা।
আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর মৎস্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকার বাইরে কিশোরগঞ্জে কেন্দ্রীয় আয়োজনের পেছনের কারণ
এ বছর জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় আয়োজন রাজধানীর বাইরে কিশোরগঞ্জে আয়োজন করার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মিঠাপানির মাছের এক সিংহভাগ জোগান আসে হাওরাঞ্চল থেকে।
তিনি জানান, “মৎস্য উৎপাদনে হাওরাঞ্চলের অবদান অপরিসীম। তাই প্রান্তিক মৎস্যচাষি, সাধারণ জেলে ও সরাসরি মৎস্য খাতের সাথে যুক্ত মানুষের কাছে এই কর্মসূচির সুফল ও বার্তা সরাসরি পৌঁছে দিতেই প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি ও নির্দেশনায় ঢাকার বাইরে এ ব্যতিক্রমী ও প্রাণবন্ত আয়োজন করা হয়েছে।”
মৎস্য খাতের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা ও বর্তমান রূপরেখা
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু তাঁর বক্তব্যে মৎস্য খাতের অতীত পথচলা স্মরণ করে বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি ও মৎস্য খাতের বৈপ্লবিক রূপান্তরে খাল খনন ও নদী পুনর্খননসহ নানা যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াও এই খাতের আধুনিকায়নে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তিনি আরও যুক্ত করেন, “বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৎস্য ও কৃষি খাতকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করতে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে তিনি এই খাতের সার্বিক উন্নয়নে একাধিক বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রান্তিক অর্থনীতিতে মৎস্য অধিদপ্তর আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারবে।”
সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি প্রতিমন্ত্রীর বার্তা
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত চেষ্টার প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু একটি রূপক তুলে ধরে বলেন, “হাতের পাঁচটি আঙুলের মতো আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব আলাদা হতে পারে, কিন্তু সব আঙুল একত্রিত হলেই মুষ্টিবদ্ধ হাতের মতো বিশাল শক্তির সঞ্চার হয়। সবার আন্তরিক প্রচেষ্টাতেই এবারের আয়োজন সফলতা পেয়েছে।”
একই সাথে প্রশাসনিক কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন:
দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন: রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব শতভাগ সৎ ও যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
ফাঁকি বর্জন: কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরণের অবহেলা বা ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই।
মেধার সঠিক ব্যবহার: নিজ নিজ যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে দেশের সেবা এবং মৎস্য খাতের অগ্রগতি সুনিশ্চিত করতে হবে।
এক নজরে জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর সমাপনী বার্তা:
| বিষয় | প্রধান আলোকপাত |
| অনুষ্ঠানের নাম | জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠান। |
| অনুষ্ঠানের স্থান | মৎস্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষ, ঢাকা। |
| প্রধান অতিথি | মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। |
| মূল বার্তা | অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাড়ানোয় জোর। |
| ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা | হাওরাঞ্চলকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন। |
অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মৎস্যচাষী, প্রান্তিক জেলে এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

