Friday, 18 September, 2026

ফ্রুটব্যাগিং জনপ্রিয়তা পাচ্ছে আমের রাজধানীতে


ফল চাষিরা ফলের উৎপাদনের সময় যে বিষয়টাতে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত থাকে তা হলো্ সংরক্ষন। বিভিন্ন ভাবে তারা তাদের ফল সংরক্ষণ করে থাকেন। তবে বর্তমানে ফল সংরক্ষণে ফ্রুট ব্যাগিং একটি ভালো পদ্ধতি হিসেবে প্রমানিত হয়েছে।  ফলে যেমন ছত্রাক ও পোকামাকড় আক্রমণ করতে না পারে তার জন্য ফ্রুট ব্যাগিং করা হয়। এতে যেমন কীটনাশকের প্রয়োজন হয় না তেমনি ফলের গুণগত মান ভাল থাকে। পাশাপাশি এটি স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ।

নওগাঁর সাপাহার উপজেলা আমাদের দেশের আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত । এ অঞ্চলে আম চাষিদের  আগ্রহ বেড়েছে ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির প্রতি । কম খরচে  রোগ বালাইয়ের হাত থেকে আম রক্ষা করতে এই পদ্ধতি এখন বেশ জনপ্রিয় । এতে অধিক মুনাফাও পাচ্ছে তারা। যে সকল আম  বিদেশে রফতানি হবে সে সকল আম উৎপাদনের লক্ষ্যে ফ্রুট ব্যাগিং ব্যবহার করা হচ্ছে। ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার এর ফলে চাষিরা উপকৃত হচ্ছেন।

জানা যায়  চীন থেকে আমদানি করা এই ফ্রুট ব্যাগিং  বিভিন্ন পোকামাকড়ে আক্রমণ প্রতিরোধ করে। এতে আম কম নষ্ট হয়ে ফলনবাড়ায়।এই পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে মানসম্পন্ন আম বৃদ্ধি পাবে ও বিদেশে রফতানি সহজ হবে। ।

আরো পড়ুন
গুদামে উপচে পড়া সার, মাঠে হাহাকার: ত্রুটিপূর্ণ বিতরণ ব্যবস্থায় জিম্মি আমন চাষিরা

সারাদেশে মাঠপর্যায়ে আমন ধানের আবাদ পুরোদমে চলছে। এই সময়ে কৃষকদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ইউরিয়াসহ অন্যান্য সার। সরকারি তথ্যমতে, দেশে সারের Read more

বাড়তি দাম ও পর্যাপ্ত মজুতে ২০২৩-২৭ মেয়াদে গম আমদানি ১১% কমার পূর্বাভাস
বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি ও দেশে পর্যাপ্ত মজুদের কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশে গম আমদানি ১১% কমে ৬৬ লাখ টনে নামার পূর্বাভাস দিয়েছে USDA

বিশ্ববাজারে চড়া দাম, বাজারে পর্যাপ্ত মজুদ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অনিশ্চয়তার কারণে আগামী ২০২৬-২৭ বিপণন বছরে বাংলাদেশে গম আমদানি ১১ Read more

বিগত কয়েক বছর ধরে উপজেলায় ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতির প্রচুর ব্যবহার করছে। প্রথমে হাতে গোনা কয়েকজন করলেও সময়ের পরিক্রমায় বর্তমানে এলাকার প্রায় সকলেই এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন। ফ্রুটব্যাগিং করা আমের গ্রহণযোগ্যতা ভোক্তাদের কাছে বেশি হওয়ায় লাভবান হচ্ছেন আমচাষিরা।

সাপাহার  ‘বরেন্দ্র এগ্রো পার্ক’ এর একজন তরুণ উদ্যোক্তা জানান, বিভিন্ন জাতের প্রায় ২০ হাজার পিস আমে ফ্রুট ব্যাগিং করেছিলেন তিনি।

এতে করে আমে ছত্রাক ও পোকামাড়ক আক্রমণ করতে পারে না। কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ না করায় চাষিদের খরচ তুলনামুলক কমে যায়। এতে করে আমের আকার, চেহারা ও কালার ভালো থাকবে এবং সর্বোচ্চ দামে বিক্রি করা যাবে। তিনি আরও জানান, ফ্রুট ব্যাগিং করা আম্রপালি আম  ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় করেছেন।

অপর েএকজন আম চাষি জানান,  ফ্রুট ব্যাগিং  করা আমের চাহিদা বেশি। এতে আম বিষমুক্ত ও  স্বাস্থ্য সম্মত থাকে ।

সাপাহার উপজেলা কৃষি সম্প্রারণ কর্মকর্তা জানান, এবার উপজেলায় ৮-১০ লাখ ফ্রুট ব্যাগ বিক্রয় হয়েছে। তার মতে, আশ্বিনা, বারি-৪ ও গৌরমতি জাতের আম ফ্রুট ব্যাগিংপদ্ধতিতে সংরক্ষন করা যায়। এতে মৌসুমের শেষে অধিক দামে আমগুলো বিক্রি করা যায়।

0 comments on “ফ্রুটব্যাগিং জনপ্রিয়তা পাচ্ছে আমের রাজধানীতে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ