গত বছরের মন্দা কাটিয়ে এবার নাটোরে আমের বাম্পার ফলনের হাতছানি। জেলার চারটি উপজেলার বাগানগুলো এখন গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ক্ষীরশাপাত আর স্থানীয় আটি আমে নুয়ে পড়ছে। গত ১২ মাস আগে যেসব গাছ প্রায় ফলশূন্য ছিল, এবার সেখানে সবুজের সমারোহ দেখে কৃষকদের চোখেমুখে হাসির ঝিলিক।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নাটোরে আমকে কেন্দ্র করে ৪০০ কোটি টাকারও বেশি অর্থপ্রবাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কৃষকের চোখে আশার আলো
লালপুর উপজেলার গৌরীপুর, গোপালপুর ও মোমিনপুর গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, ফলের ভারে গাছের ডালগুলো প্রায় মাটি ছুঁই ছুঁই করছে। কলেজ শিক্ষক থেকে আমচাষি হওয়া মো. ইসরাইল হোসেন বলেন:
“গত বছর আমার অর্ধেক গাছে কোনো ফল ছিল না। এবার ৭০ শতাংশ গাছ ফলে ভরপুর। প্রতি বিঘা বাগানে ৩০ হাজার টাকা খরচ হলেও আশা করছি লাখ টাকার উপরে লাভ থাকবে।”
মোমিনপুর গ্রামের কৃষক হামিদুল ইসলাম জানান, গত বছর এক বিঘা বাগান যেখানে দেড় থেকে পৌনে দুই লাখ টাকায় বিক্রি হতো, এবার ফলন ভালো হওয়ায় তা আড়াই লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
নাটোরে আমের অর্থনীতি: এক নজরে পরিসংখ্যান
নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান জানান, গত দুই দশকে নাটোর উত্তরাঞ্চলের চতুর্থ বৃহত্তম আম উৎপাদনকারী জেলায় পরিণত হয়েছে।
| বিষয়ের নাম | তথ্য ও পরিসংখ্যান |
| আবাদি জমি | ৫,৬৯৩ হেক্টর |
| উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা | ৬৮,৩১৬ মেট্রিক টন |
| সম্ভাব্য বাজারমূল্য | ৪০০ কোটি টাকা + |
| লিচু আবাদ ও লক্ষ্যমাত্রা | ৪,৮৮৭ হেক্টর (৭,৫৪০ মেট্রিক টন) |
প্রকাশিত হলো ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার ২০২৬’
নিরাপদ ও কেমিক্যালমুক্ত আম নিশ্চিত করতে সোমবার জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন-এর সভাপতিত্বে আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ বিষয়ক সভায় একটি অফিসিয়াল সময়সূচি (Harvesting Calendar) চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আম সংগ্রহের সময়সূচি:
আটি আম (স্থানীয়): ১৫ মে (শুক্রবার) থেকে
গোপালভোগ: ২৫ মে
ক্ষীরশাপাত: ৩০ মে
লক্ষণভোগ: ৫ জুন
ল্যাংড়া ও আম্রপালি: ১৫ জুন
হরিভাঙ্গা ও মোহনভোগ: ২৫ জুন
ফজলি: ৩০ জুন
মল্লিকা: ৫ জুলাই
বারি আম-৪: ১৫ জুলাই
আশ্বিনা: ২০ জুলাই
গৌড়মতি: ১০ আগস্ট
লিচু সংগ্রহের সময়সূচি:
মোজাফফর জাত: ১৭ মে থেকে
বোম্বাই ও চায়না-৩: ২৫ মে থেকে
বাজারজাতকরণ ও রপ্তানি পরিকল্পনা
জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন জানান, বাগান থেকে আম ও লিচু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিতে পরিবহন ব্যবস্থা ও বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে নাটোরে উৎপাদিত আমের একটি বড় অংশ ‘ফ্রুট ব্যাগিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সতর্ক রয়েছে যাতে কোনো স্তরেই অসাধু উপায়ে রাসায়নিক ব্যবহার না করা হয়।
বাম্পার ফলন আর প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকিতে এবার নাটোরে আম ও লিচুর বাণিজ্যিক রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

