Monday, 12 January, 2026

ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে বালেশ্বর নদীকে নতুন প্রজনন ক্ষেত্র করার প্রস্তাব


বলেশ্বর নদী মূলত দক্ষিণাঞ্চলীয় বাগেরহাট, পিরোজপুর এবং বরগুনা জেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে। ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে বালেশ্বর নদীকে নতুন প্রজনন ক্ষেত্র করার প্রস্তাব করেছেন বাংলাদেশের মৎস্য বিজ্ঞানীরা।

বাংলাদেশের মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, বলেশ্বর নদীতে নতুন প্রজনন কেন্দ্র করা হলে সেখান থেকে বছরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ইলিশ বাড়তি পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ইয়াহিয়া মাহমুদ বলেছেন, ২০১৯ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বলেশ্বর নদীর মোহনা অঞ্চলে ইনস্টিটিউট এই গবেষণাটি চালিয়েছে।

আরো পড়ুন
বিলুপ্ত প্রজাতির প্রাণী সংরক্ষণ ও দেশীয় জাত বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ মৎস্য উপদেষ্টার

নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং তাদের স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনাকে অত্যন্ত জরুরি বলে অভিহিত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা Read more

শীতে আলুর মড়ক বা নাবি ধসা রোগ: ফসল রক্ষায় কৃষকের করণীয়
আলুর মড়ক বা নাবি ধসা (Late Blight) রোগের চিত্র

শীতের মৌসুমে আলুর ফলন নিয়ে যখন কৃষক স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন, ঠিক তখনই বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ‘নাবি ধসা’ Read more

মি. মাহমুদ বলেছেন, গবেষণায় তিনটি বিষয় দেখতে পেয়েছেন তারা।

প্রথমত, গবেষণা চলাকালে ওই অঞ্চলে প্রজননক্ষম ইলিশের আধিক্য ছিল।

দ্বিতীয়ত, সেখানে ইলিশের বসবাসের অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান ছিল। এর মানে হচ্ছে, সাগর থেকে ইলিশ যখন ডিম ছাড়ার জন্য নদীতে আসে, মানে উজানে আসে তখন নদীর যে প্ল্যাংটন বা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণী খায়, বলেশ্বর নদীর মোহনায় তার প্রাচুর্য ছিল।

এছাড়া, গবেষণা চলাকালে গবেষকেরা ওই অঞ্চলে লার্ভি অর্থাৎ ডিম ফুটে বেরুনো বাচ্চা ইলিশ এবং জাটকাও সেখানে প্রচুর পরিমাণে ছিল।

গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এর আগে যে চারটি ইলিশের প্রজনন কেন্দ্র করা হয়েছে, তার সাথে এই এলাকার জলজ পরিবেশ এবং মাছের ডিম ছাড়ার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।

এসব কারণে এখন মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট মনে করে, বলেশ্বর নদী ও মোহনা অঞ্চল ইলিশের একটি সম্ভাবনাময় প্রজননক্ষেত্র।

*বিবিসি

0 comments on “ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে বালেশ্বর নদীকে নতুন প্রজনন ক্ষেত্র করার প্রস্তাব

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ