Saturday, 06 December, 2025

আতা ফল বাণিজ্যিক চাষ করে ব্যপক সফল চাষি শাহজাহান বাদশা


আতা ফল, আামদের দেশীয় ফলের মধ্যে খুব জনপ্রিয় ফল। সেই আতাফল এর বাণিজ্যিক চাষ এর সম্ভাবনা থাকলেও সেটি অনেকটা উপেক্ষিতই থাকে। তবে এবার পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের চাষি শাহজাহান আলী বাদশা সেটাকেই ‍দিয়েছেন বেশি গুরুত্ব। তিনি আতা ফল বাণিজ্যিক চাষ করে বাজিমাত করেছেন। দেশের বিভিন্ন জেলায় শরিফা ফল বা মেওয়া ফল নামেও পরিচিত এই আতা ফল।

আতা ফল এর বাণিজ্যিক চাষ

বাদশা মিয়া জানান প্রায় ১৫ বছর আগে এ বাগানটি শুরু করেন। বাণিজ্যিকভিত্তিতে তৈরি এ বাগানের আয়তন এখন ৪০ বিঘা।  তিনি এ বাগান থেকে ফল পাওয়া শুরু করেন ২০১২ সাল থেকে। এখন পরিপূর্ণ ফলন পাওয়া যাচ্ছে তার বাগান থেকে। বাজারে ভালো দাম পাচ্ছেন এই ফল বিক্রি করে।

আরো পড়ুন
অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নিশ্চিত করতে হবে: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার
অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নিশ্চিত করতে হবে

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিশ্চিত করতে সকলকে একসাথে Read more

কৃষি অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড: স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও চ্যানেল আইয়ের যৌথ উদ্যোগে ১১ জনকে সম্মাননা!
কৃষি অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড: স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও চ্যানেল আইয়ের যৌথ উদ্যোগে ১১ জনকে সম্মাননা!

কৃষিতে বিশেষ অবদানের জন্য আটজন ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দিয়েছে বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (এসসিবি) এবং চ্যানেল আই। সারাদেশে Read more

আতা ফল চাষে উদ্বুদ্ধ হবার প্রশ্নে তিনি জানান দেশীয় এই ফল বিলুপ্তপ্রায়। দেশি এই ফলকে বাঁচিয়ে রাখার ইচ্ছা জন্মায় এক সময়। সেই থেকেই শুরুতে এক একর জমিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাগান গড়ে তুলেছিলেন বাদশা মিয়া। তার দাবি দেশে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গড়ে তোলা প্রথম আতা ফল বাগান হল তার বাগান। দীর্ঘ ১৫ বছরে তার সেই ছোট বাগান আজ ৪০ বিঘার বাগানে রূপ নিয়েছে।

বাদশা মিয়ার ভাষ্যমতে, ২০০৬ সালে ঢাকার বায়তুল মোকারম এলাকা থেকে তিনি তিন কেজি আতা ফল কেনেন। প্রতিকেজি ৩০০ টাকা দরে সেই আতা ফল কিনেছিলেন তিনি। এরপর প্রায় হাজার টাকার ঐ ফল থেকে বীজ সংগ্রহ করেন এবং চারা তৈরি করেন।

এরপর সেই চারা দিয়েই তিনি বাগান শুরু করেছিলেন। ক্ষেতে লাগানোর পাঁচ বছর পর থেকে তিনি ফল পাওয়া শুরু করেছেন। সীমিত আকারে ফল পেয়েছিলেন শুরুর দুই বছর। কিন্তু এখন সব গাছ থেকে পূর্ণ ফলন পাচ্ছেন তিনি।

বাদশা মিয়া বলেন, বৈশাখ মাসে ফুল আসে এই ফলের। ভাদ্র মাসে ফলন সংগ্রহ করা যায় এই ফলের। আতা ফল উৎপাদন খরচ কম। চারা লাগানো, যত্ন-পরিচর্যা সব কিছু মিলিয়ে বিঘা প্রতি ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয় বলে জানান তিনি।

বাগানের গাছের উচ্চতা ৭ থেকে ৮ ফুট থাকলে ঝড়ে ডালপালা ভেঙে যাওয়া আশঙ্কা কম থাকে। আগাছা দূর করা ও সার দেয়া ছাড়া বাড়তি যত্ন-পরিচর্যা করতে হয় না।

মাঝে মধ্যে মিলিব্যাগ নামক ছোট ছোট পোকার আক্রমণ হয়। তবে সেটি প্রতিষেধক দ্বারা সহজেই দমন করা সম্ভব। পাকা ফল দ্রুত তোলাই ভালো না হলে পাখি খেয়ে নিতে পারে।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক জানান, দেশীয় প্রজাতির এ ফল শরীরের জন্য খুবই উপকারী। একই সাথে এর চাষ করাও লাভজনক।

0 comments on “আতা ফল বাণিজ্যিক চাষ করে ব্যপক সফল চাষি শাহজাহান বাদশা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ