Wednesday, 04 November, 2026

বিলুপ্ত প্রজাতির প্রাণী সংরক্ষণ ও দেশীয় জাত বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ মৎস্য উপদেষ্টার


নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এবং তাদের স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনাকে অত্যন্ত জরুরি বলে অভিহিত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। তিনি বলেন, প্রাণীর সুরক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এখন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের সময় এসেছে।

গতকাল দুপুরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) আয়োজিত ‘পার্বত্য অঞ্চলের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন গবেষণা পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রাণীর অভিযোজন ও দেশীয় জাতের প্রসারে গুরুত্ব

আরো পড়ুন
তেলাপিয়া মাছের শীতকালীন রোগ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক পরিচর্যা

বাণিজ্যিক মৎস্য চাষে তেলাপিয়া অন্যতম লাভজনক ও জনপ্রিয় মাছ। তবে শীতকালে তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে পুকুরের পরিবেশ এবং মাছের Read more

স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি: কম খরচে লাভজনক আনারকলি (Passion Fruit) চাষ পদ্ধতি ও যত্ন
বাংলাদেশে আনারকলি চাষ

বাংলাদেশের কৃষিতে সাম্প্রতিক সময়ে অপ্রচলিত ফল ও সবজি চাষে বিপ্লব ঘটেছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি উচ্চমূল্যের ও লাভজনক নাম হলো Read more

উপদেষ্টা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক কারণে প্রাণীদের ওপর কী প্রভাব পড়ছে এবং তারা নতুন পরিবেশে কীভাবে মানিয়ে নিচ্ছে, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। তিনি বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের আবহাওয়া বিবেচনায় ভিন্ন এলাকার ছাগল বা মুরগির অভিযোজন ক্ষমতা পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দেন। উপদেষ্টা কেবল ব্রয়লার বা লেয়ার মুরগির ওপর নির্ভর না করে দেশীয় হাঁস-মুরগি ও পশুর জাত সংরক্ষণ এবং এদের বংশবৃদ্ধিতে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও ভ্যাকসিনেশন

পশুস্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্যের নিবিড় সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে ফরিদা আখতার বলেন, “সময়মতো টিকা বা ভ্যাকসিন না দিলে গবাদিপশুর মধ্যে মহামারি ছড়িয়ে পড়ার এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। এই টিকাদান কর্মসূচি কেবল পশুর জন্য নয়, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ও অপরিহার্য।” তিনি পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পে শিক্ষিত তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।

বাজার ব্যবস্থাপনা ও ফিড উৎপাদন

খামারিদের লোকসান ও বাজার ব্যবস্থার সংকট তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যের কারণে খামারিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের (ফিড) দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। তিনি পোল্ট্রি ফিডের আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয়ভাবে ভুট্টা ও সয়াবিন উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথি ও অংশগ্রহণকারী

বিএলআরআই-এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. আবু নঈম মুহাম্মদ আবদুছ ছবুর এবং বান্দরবান জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জুলহাস আহমেদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী।

এর আগে উপদেষ্টা বিএলআরআই-এর আঞ্চলিক কেন্দ্রে ‘উন্নত প্রযুক্তিতে নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক খামারি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রাণীর শেড পরিদর্শন করেন। কর্মশালায় বিএলআরআই-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।

0 comments on “বিলুপ্ত প্রজাতির প্রাণী সংরক্ষণ ও দেশীয় জাত বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ মৎস্য উপদেষ্টার”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ