Saturday, 31 October, 2026

বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন হচ্ছে ভার্মিকম্পোস্ট যুক্ত হয়েছেন দুইশ কৃষক


কেঁচোর বিষ্ঠা বা মলকে জৈব সার হিসেবে ব্যবহার করা নতুন কিছু নয়। এভাবে যে ধরণের জৈব সার তৈরি হয়, তাকে বলা হয় ভার্মি কম্পোস্ট। ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন হচ্ছে ভার্মিকম্পোস্ট । স্থানীয়ভাবে ভার্মি কম্পোষ্ট এর পরিচিতি কেঁচো কম্পোস্ট বা কেঁচো সার। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার দেখানো পথ ধরে প্রায় দুইশ কৃষক এই জৈব সারের বাণিজ্যিক উৎপাদনে যুক্ত হয়েছেন। আর এই চাষের কারণে লাভের মুখও দেখছেন সকলে।

কেচোর মল দিয়ে উৎপন্ন এই জৈব সার বিষমুক্ত ফসল উৎপাদনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। প্রান্তিক কৃষকদের এই সার ব্যবহার নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে কেবল বিষমুক্ত হবার এই কারণে । ঠাকুরগাঁও জেলার আশপাশের জেলাগুলোতেও এখন এই সারের চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, ২০১৭ সালে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ২০টি কংক্রিটের চাকতির মধ্যে কেঁচো সার উৎপাদন নিয়ে কাজ শুরু করেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তপন মাহামুদ। উপজেলার কৃষকরা তাকে দেখেই  বাণিজ্যিকভাবে কেঁচো সার উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

আরো পড়ুন
স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি: কম খরচে লাভজনক আনারকলি (Passion Fruit) চাষ পদ্ধতি ও যত্ন
বাংলাদেশে আনারকলি চাষ

বাংলাদেশের কৃষিতে সাম্প্রতিক সময়ে অপ্রচলিত ফল ও সবজি চাষে বিপ্লব ঘটেছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি উচ্চমূল্যের ও লাভজনক নাম হলো Read more

লেয়ার মুরগি পালনঃ লেয়ার মুরগির ফার্মে কখন কি টিকা দিতে হবে?
লেয়ার মুরগির ফার্মে কখন কি টিকা দিতে হবে?

লেয়ার মুরগির খামারে রোগের ঝুঁকি দূর করতে এবং সঠিক ডিম উৎপাদন নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট বয়স অনুযায়ী টিকা (Vaccine) দেওয়া আবশ্যক। Read more

গুরুত্ব পাচ্ছে ভার্মিকম্পোষ্ট বা কেচো সার

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অর্ধ পচা গোবর, শাকসবজির ফেলে দেওয়া অংশ, কলাগাছ ও কচুরিপানা ইত্যাদি একসঙ্গে মিশিয়ে নেয়া হয়। এরপর সেখানে কেঁচো ছেড়ে দেওয়া হয়। এসব ময়লা খেয়ে কেঁচো মলত্যাগ করে পচায় এবং বংশবিস্তার করতে শুরু করে।

এই পচানো দ্রব্যই মূলত জৈব সারে পরিণত হয়। এই সার কেজি প্রতি ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। িআবার কেঁচো প্রতি কেজি তিন হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছর তিনেক আগে দুওসুও ইউনিয়নের মহিষমারী গ্রামের হারুন উপজেলা কৃষি অফিস থেকে একটি কংক্রিটের রিং কেনেন। সাথে কেনেন ১ কেজি কেঁচো। এরপর উৎপাদন শুরু করেন কেঁচো সার। বর্তমানে ৮০টি কংক্রিটের রিংয়ে কেঁচো সার উৎপাদন করছেন তিনি।

নিজ উদ্যোগে স্থানীয় প্রবীণ সাংবাদিক হারুন অর রশিদও যুক্ত হয়েছেন কেচো সার উৎপাদনে।  এ বছর ১২০টি কংক্রিটের রিং স্থাপন করেছেন তিনি। শুরু করেছেন কেঁচো সার উৎপাদন ।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তপন মাহামুদ এর সাথে কথা বলে জানা যায়  কৃষকরা যদি কেঁচো সার উৎপাদন করতে চান তাহলে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত কৃষি বিভাগ। এমনকি কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে ভার্মি কম্পোষ্ট উৎপাদনে। সবজিকে সম্পূর্ণভাবে বিষমুক্ত রাখবেএই সার ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় জানান, উপজেলায় এখন জৈব পদ্ধতিতেই বেশিরভাগ সবজি চাষ হচ্ছে। যার ফলে এই সারের চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

0 comments on “বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন হচ্ছে ভার্মিকম্পোস্ট যুক্ত হয়েছেন দুইশ কৃষক”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ