Friday, 28 August, 2026

দুশ্চিন্তায় গোলাপ গ্রামের চাষিরা, ক্ষতি হতে পারে ১০০ কোটি টাকা


গ্রাম হলেও বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ফসলের খেত এর বদলে রয়েছে গোলাপের খেত। সবকিছু ছাপিয়ে এ এক ভিন্ন গ্রাম। মাইলের পর মাইল শুধু গোলাপ আর গোলাপ। গোলাপের আধিপত্য সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের। আর তাই এদের নাম লোকমুখে পরিবর্তিত হয়ে পরিচিতি পেয়েছে ‘গোলাপ গ্রাম’ হিসেবে। কিন্তু দুশ্চিন্তায় গোলাপ গ্রামের চাষিরা, অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তারা। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ক্ষতির দুশ্চিন্তায় গোলাপ গ্রামের চাষিরা এখন তাকিয়ে আছেন সামনের দিকে।

গোলাপ গ্রামের মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস এই গোলাপ ফুল

পাশাপাশি বিভিন্ন ফুল যেমন জারবেরা, গ্ল্যাডিওলাস, চন্দ্রমল্লিকা, কসমস, ক্যালেন্ডুলা, গাঁদা প্রভৃতি চাষও হয় এখানে।

আরো পড়ুন
অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সফল মৎস্য খাত, এবার নজর বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাড়ানোয়: জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনীতে মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ বর্তমানে মাছের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করেছে উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, Read more

দেশের অব্যবহৃত জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে বন্টন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও কর্মসংস্থানমুখী করতে সরকারি জলমহাল, অব্যবহৃত পুকুর, হাওর-বাঁওড় ও জলাশয় সংস্কার করে স্থানীয় বেকার Read more

কিন্তু করোনার কারণে বিধিনিষেধ থাকায় তারা বিপণন করতে পারেননি।

সেই সাথে যুক্ত হয়েছে বাগানে ছত্রাকের প্রাদুর্ভাব।

এতে সাভারের প্রায় ১০০ কোটি টাকার এই ফুলের বাজার নিয়ে বেশ চিন্তিত ফুলচাষিরা।

গোলাপ গ্রাম সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের পদচারণে মুখর থাকে।

শহুরে জীবনের একঘেয়েমি দূর করতে অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চলে আসেন এখানে।

টাটকা ফুল কেনার পাশাপাশি স্থানীয় শ্যামপুর ও মৈস্তাপাড়ায় গড়ে ওঠা রাতের ফুলের বাজার থেকে স্থানীয় ফড়িয়ারা ফুল কিনেন।

পরবর্তীতে সরাসরি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করেন তারা।

বিভিন্ন উৎসবের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত বাগান ও স্থানীয় বাজারে গোলাপের দাম উঠানামা করে থাকে।

তবে এবার ফুলের বেচাকেনা নিয়ে চিন্তিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সাভার উপজেলার কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাভারের বিভিন্ন এলাকায় ফুলের চাষ হচ্ছে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে।

বিরুলিয়া ইউনিয়নে ২০০ থেকে ২২০ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ হচ্ছে।

অন্যদিকে বনগাঁও ও ভাকুর্তা ইউনিয়নের বেশ কিছু জায়গায়ও ফুলের চাষ হচ্ছে।

ফুলচাষিরা আশা করেছিলেন বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বড় অঙ্কের বাণিজ্যের।

কিন্তু সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

যার কারণে এসব অনুষ্ঠান উদ্‌যাপন নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে তাদের মনে।

অন্যদিকে বেশ কয়েকটি বাগানে ছত্রাকের প্রাদুর্ভাবে চিন্তিত চাষিরা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজিয়াত আহমেদ।

তিনি বলেন, সব ঠিক থাকলে ১০০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী।

গত বছর লোকসান হয়েছিল ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার।

তিনি আরও বলেন করোনার সময় ফুল নিয়ে যাবার জন্য বিশেষ পরিবহনের ব্যবস্থা করা হবে।

ছত্রাকের আক্রমণ সম্পর্কে তিনি জানান, ২০১৭ সালেও আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এমন হয়েছিল।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ তারা নিচ্ছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ঋণের বিষয়ে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

0 comments on “দুশ্চিন্তায় গোলাপ গ্রামের চাষিরা, ক্ষতি হতে পারে ১০০ কোটি টাকা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ