Tuesday, 27 October, 2026

টাঙ্গাইলে হলুদ বিপ্লব: কম খরচে বেশি লাভে সফল কৃষকেরা


মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুরের পাহাড়ি এলাকায় হলুদ চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখছেন কৃষকেরা। এবার শুধু মধুপুর উপজেলাতেই প্রায় ৫৮ কোটি টাকার হলুদ বিক্রির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্য ফসলের তুলনায় কম খরচে ও কম ঝুঁকিতে বেশি লাভের কারণে দিন দিন এই অঞ্চলের কৃষকদের কাছে হলুদ চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

কৃষকদের মতে, হলুদ চাষে গরু, ছাগল বা পোকামাকড়ের উপদ্রব নেই, তাই ফসলহানির ঝুঁকিও কম। এমনকি পরিত্যক্ত জমিতেও হলুদের ভালো ফলন হয়। বাজারে মসলা হিসেবে এর চাহিদা এবং দামও অনেক বেশি। এ কারণেই টাঙ্গাইলের পাহাড়ি এলাকার কৃষকেরা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হলুদের আবাদ বাড়াচ্ছেন।

উচ্চফলনশীল জাত এবং লাভজনক ফলন

আরো পড়ুন
রংপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে জৈব সার: মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি খুলছে আয়ের পথ

রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মাটির উর্বরতা বাড়াতে রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে জৈব সার প্রস্তুত ও ব্যবহারের প্রবণতা আশানুরূপভাবে বাড়ছে। Read more

পেঁয়াজ পচন ঠেকাতে বাকৃবি গবেষকদের নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন

উপযুক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে প্রতিবছর দেশের বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ নষ্ট হয়, যার ফলে বছরের শেষভাগে এসে বাংলাদেশকে আমদানির ওপর নির্ভর Read more

স্থানীয় জাতগুলোর মধ্যে হরিণপালি, আদাগতি, মহিষবাট, পাটনাই, আড়ানী ইত্যাদি প্রচলিত। তবে কৃষিবিদদের মতে, ডিমলা ও সিন্দুরী নামে দুটি উচ্চফলনশীল জাতের ফলন অনেক বেশি। ডিমলা জাতটি স্থানীয় জাতের চেয়ে ৩ গুণ এবং সিন্দুরী ২ গুণ বেশি ফলন দেয়। এই দুটি জাতই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত বারি হলুদ-৩, বারি হলুদ-৪, বারি হলুদ-৫ জাতের হলুদও চাষ করে কৃষকেরা আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন।

কৃষিবিদরা হলুদকে ‘মিরাকল হার্ব’ বা অলৌকিক ভেষজ বলে থাকেন। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ম্যাগনেশিয়াম ও ভিটামিন সি থাকে। এর কারকিউমিন নামক রাসায়নিক বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। মসলা হিসেবে ব্যবহারের পাশাপাশি এটি প্রসাধনী এবং রং শিল্পেও ব্যবহৃত হয়।

ব্যয় ও লাভের হিসাব

মধুপুর উপজেলার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতি বিঘায় হলুদ চাষে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ৭০-৮০ মণ পর্যন্ত হলুদ উৎপাদন হতে পারে। বাজারমূল্য ভালো পেলে বিঘাপ্রতি প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকা লাভ থাকে। আরেক কৃষক বাপ্পি জানান, হলুদ চাষে তেমন বেশি ঝামেলা হয় না। সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও কম। উৎপাদন ভালো হলে খরচ বাদে ৬০-৭০ হাজার টাকা লাভ হয়।

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে উৎপাদন

মধুপুর উপজেলায় এ বছর ৯৮০ হেক্টর জমিতে হলুদ চাষ হয়েছে, যা থেকে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন হলুদ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত বছর ৭৬০ হেক্টর জমিতে প্রায় ৯ হাজার মেট্রিক টন হলুদ উৎপাদন হয়েছিল, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি ছিল। কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে এ বছর মধুপুরে প্রায় ৫৮ কোটি টাকার হলুদ বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।

টাঙ্গাইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ দুলাল উদ্দিন জানান, জেলার উঁচু এলাকায় হলুদকে সাথী ফসল হিসেবে চাষ করা হয়। এবার বাম্পার ফলনের আশা করা হচ্ছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা অনেক লাভবান হবেন। কৃষি অফিস থেকেও নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

0 comments on “টাঙ্গাইলে হলুদ বিপ্লব: কম খরচে বেশি লাভে সফল কৃষকেরা”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ