Thursday, 23 July, 2026

চিংড়ি খাতে বিপর্যয়: রফতানি আয় কমেছে অর্ধেকে


বাংলাদেশের হিমায়িত মাছ রফতানি, যা এক সময় ছিল বার্ষিক প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, বর্তমানে নেমে দাঁড়িয়েছে ৪৫০ মিলিয়ন ডলারে। সিমার্ক গ্রুপের আয় ৪-৬ কোটি ডলার থেকে নেমে প্রায় ২ কোটিতে ঠেকেছে, যার মধ্যে হিমায়িত খাবার থেকে আয় প্রায় ৫ লাখ ডলার – প্রবৃদ্ধি থাকলেও আগের চেয়ে অনেক কম।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, দূষণের কারণে মাছ গভীর সাগরে সরে যাচ্ছে। জলাশয় ভরাট হচ্ছে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও নিবিড় চাষ পদ্ধতি জলজ বাস্ততন্ত্র ধ্বংস করছে। এ ছাড়া উচ্চ ফলনশীল ভেনামি (Vannamei) চিংড়ি চাষে বিলম্ব প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কামরুল আলম বলেন, “ভারত ১ লাখ হেক্টর জমিতে ১৫ লাখ টন ভেনামি চিংড়ি উৎপাদন করে। আমরা ২ লাখ হেক্টর থেকে উৎপাদন করি মাত্র ১ লাখ টন।”

আরো পড়ুন
ময়মনসিংহে আধুনিক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন
ময়মনসিংহে ফুডটেকবাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় আরএএস (RAS) প্রযুক্তির অত্যাধুনিক মৎস্য গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন। বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস যৌথ উদ্যোগে মৎস্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আশা

বাংলাদেশের মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও বাজার সংযোগ বৃদ্ধিতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো। আজ ময়মনসিংহে ‘ফুডটেকবাংলাদেশ’ (FoodTechBangladesh) প্রকল্পের Read more

পাট রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে ‘স্লিভার’ রপ্তানির মহোৎসব
কাঁচা পাট রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা ফাঁকি দিয়ে জুট স্লিভার রপ্তানি বন্ধের দাবি

ঘরোয়া শিল্পের কাঁচামাল নিশ্চিত করতে সরকার কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করলেও, সেই নিয়মের ফাঁক গলে ‘জুট স্লিভার’ Read more

বর্তমানে ৭৫টি সদস্য কারখানার মধ্যে মাত্র ৩০টি সচল। টোটাল ফুড প্রসেসিং, এসিআই ফুডস, অ্যাপেক্স ফুডসের মতো রফতানিকারকেরাও হিমায়িত খাদ্যে পা বাড়িয়েছে।

খাত বাঁচাতে হিমায়িত পরোটা-সিঙ্গারা

সংকট মোকাবিলায় পুরনো মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ লাইনেই তৈরি হচ্ছে পরোটা, সিঙ্গারা, সমুচা। এতে কারখানা চালু রাখা ও শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ঠিক রাখা সম্ভব হচ্ছে।

কেন সীফুড রফতানিকারকরাই এগিয়ে? কারণ তারা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক খাদ্য সুরক্ষা মান (HACCP), রফতানি স্বাস্থ্য সার্টিফিকেটের শর্ত পূরণ করে। বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলায় বাজার পেতেও সুবিধা হয়।

কামরুল আলমের ভাষায়, “অনেক কারখানা শুধু টিকে থাকতেই হিমায়িত স্ন্যাকস রফতানি শুরু করেছে। এই সুযোগ না থাকলে আরও বেশি কারখানা বন্ধ হয়ে যেত।”

প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা

বাংলাদেশ ও বিদেশে বদলে যাওয়া জীবনযাত্রায় তৈরি খাবারের চাহিদা বাড়ছে। দ্বৈত আয়ের পরিবার ও কম রান্নার সময়ে হিমায়িত খাবার এখন প্রয়োজনীয়তা।

বৈশ্বিক হিমায়িত খাবারের বাজার ২০২৫ সালে ছিল প্রায় ৫৩১ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩৩ সালের মধ্যে ৮৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে (বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫.৯%)।

সিমার্ক গ্রুপের এমডি ইকবাল আহমেদ বলেন, “উৎসাহব্যঞ্জক সাড়া পাচ্ছি। গত এক দশকে এই বাজার যথেষ্ট বড় হয়েছে।”

যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক সম্প্রতি উন্নয়নশীল দেশের বাণিজ্য সুবিধা (ডিসিটিএস) তুলে ধরে বলেন, প্রায় ৯৯.৮% ট্যারিফ লাইন শুল্কমুক্ত প্রবেশযোগ্য, যা বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ। তবে তিনি স্বীকার করেন, এই খাত এখনও অনুন্নত – পরিকাঠামো ঘাটতি, দুর্বল উদ্ভাবন, গবেষণার অভাব ও দক্ষ নারী কাজের সুযোগ কম থাকায় বড় আকারে সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

0 comments on “চিংড়ি খাতে বিপর্যয়: রফতানি আয় কমেছে অর্ধেকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ