Tuesday, 20 January, 2026

কৃষিতে আধুনিকতার ছোঁয়া: ‘পলিনেট হাউজ


পলিনেট হাউজ কৃষিতে নতুন দিগন্ত

আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে বদলে যাচ্ছে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার কৃষিচিত্র। এখানে স্থাপিত ‘পলিনেট হাউজ’ এখন স্থানীয় কৃষকদের কাছে নির্ভরতা ও আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। উন্নত পদ্ধতিতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে উৎপাদিত উচ্চফলনশীল চারা রোপণ করে লাভের নতুন পথ খুঁজে পাচ্ছেন এই অঞ্চলের চাষিরা।

গুণগত মানের চারা ও কৃষকের আস্থা

রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত এই পলিনেট হাউজে প্রতিদিন ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকার কৃষক। মাটির পরিবর্তে আধুনিক ‘কোকোপিট’ পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব চারার মান ভালো হওয়ায় ফলনও মিলছে আশাতীত।

আরো পড়ুন
কৃত্রিম আলোয় ড্রাগন চাষে বিপ্লব
কৃত্রিম আলোতে ড্রাগন চাষে তিন গুন ফলন

যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামের মাঠে এখন রাতের আঁধারেও যেন দিনের আলো। আধুনিক ‘ইনডোর লাইটিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে Read more

বাংলাদেশকে ৩০ হাজার টন পটাশ সার উপহার রাশিয়ার
৩০ হাজার টন পটাশ সার উপহার রাশিয়ার

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে ৩০ হাজার টন মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার প্রদান করেছে রাশিয়া। Read more

নওগাঁ থেকে চারা নিতে আসা কৃষক সামছুল হক বলেন, “এখান থেকে আগে বেগুনের চারা নিয়ে চাষ করে খুব ভালো ফলন পেয়েছি। তাই এবারও ৩০০ পিস গ্রিন বল বেগুনের চারা নিতে এসেছি।” আরেক কৃষক খালেক হোসেন জানান, ৬ শতক জমিতে আবাদের জন্য তিনি প্রথমবারের মতো এখান থেকে মরিচের চারা সংগ্রহ করেছেন। ভালো ফলন পেলে ভবিষ্যতে সব ধরনের চারা এখান থেকেই নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর।

আধুনিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন

পলিনেট হাউজের পরিচর্যাকারী আবু রায়হান জানান, এখানে মরিচ, বেগুন, টমেটো, ফুলকপি ও বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন বারোমাসি সবজির চারা পাওয়া যায়। এছাড়া ছাদ বাগানের জন্য সবজি ও বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চারাও উৎপাদন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “চারা তৈরিতে আমরা কোকোপিট ব্যবহার করি, যার ফলে চারাগুলো মাটির চারার তুলনায় অনেক বেশি টেকসই ও রোগমুক্ত হয়। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হন না এবং ফলনও অনেক ভালো হয়।”

কৃষি বিভাগের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

আক্কেলপুর উপজেলা কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ জানান, আধুনিক এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মৌসুমী সবজির উন্নত চারা উৎপাদন করে তা কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, “পলিনেট হাউজের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ভেতরের তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও উচ্চফলনশীল ফসল ও চারা উৎপাদন করা সম্ভব। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং কৃষিকে আরও লাভজনক পেশা হিসেবে গড়ে তোলা।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি এই উদ্যোগ জয়পুরহাটের প্রান্তিক কৃষকদের ভাগ্য বদলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং কৃষি অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।

0 comments on “কৃষিতে আধুনিকতার ছোঁয়া: ‘পলিনেট হাউজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ