রমজান মাস শরীরের ওজন কমানো এবং শরীরকে বিষমুক্ত (Detox) করার জন্য একটি দারুণ সুযোগ। তবে এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনি ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত কী খাচ্ছেন তার ওপর।
সঠিকভাবে নিয়ম মানলে রমজানে ওজন কমে, কিন্তু ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে অনেকের ওজন উল্টো বেড়েও যেতে পারে। নিচে এর শারীরিক প্রভাব ও ডায়েট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. রমজানে ওজন কমার বৈজ্ঞানিক কারণ
রোজা রাখার সময় শরীর ‘অটোফ্যাজি’ (Autophagy) প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। যখন দীর্ঘ সময় (১২-১৪ ঘণ্টা) শরীর খাবার পায় না, তখন সে শক্তির জন্য শরীরে জমে থাকা চর্বি (Fat) পোড়াতে শুরু করে। একে বিজ্ঞানীরা অনেকটা ‘ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং’-এর সাথে তুলনা করেন, যা ওজন কমাতে অত্যন্ত কার্যকর।
২. কেন অনেকের ওজন কমে না বা বেড়ে যায়?
অনেকেই সারাদিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এবং চিনিযুক্ত খাবার খান।
ভাজাপোড়া খাবার: পিঁয়াজু, বেগুনি বা সিঙ্গাড়ায় প্রচুর ক্যালোরি থাকে।
চিনিযুক্ত পানীয়: অতিরিক্ত শরবত বা কোল্ড ড্রিংকস রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা মেদ হিসেবে জমা হয়।
অলসতা: রোজা রেখে সারাদিন শুয়ে-বসে থাকলে ক্যালোরি বার্ন হয় না।
৩. ওজন কমাতে আদর্শ ডায়েট চার্ট
ওজন কমাতে চাইলে নিচের তালিকাটি অনুসরণ করতে পারেন:
| সময় | কী খাবেন | কী বর্জন করবেন |
| ইফতার | ১-৩টি খেজুর, প্রচুর পানি, লেবুর শরবত (চিনি ছাড়া), ফল এবং শসা। | বেগুনি, পিঁয়াজু, জিলাপি ও অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার। |
| রাতের খাবার | লাল চালের ভাত (অল্প), সবজি, মাছ বা মুরগির মাংস এবং ডাল। | বিরিয়ানি, তেহারি বা অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার। |
| সেহরি | ওটস, দুধ, কলা অথবা অল্প ভাত ও সবজি। সেহরিতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। | চা, কফি বা অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার (এগুলো তৃষ্ণা বাড়ায়)। |
৪. শরীরের ওপর অন্যান্য ইতিবাচক প্রভাব
পরিপাকতন্ত্রের বিশ্রাম: সারাবছর একটানা কাজ করার পর পাকস্থলী ও লিভার বিশ্রাম পায় এবং নিজেকে মেরামত করার সুযোগ পায়।
কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: রোজা রাখলে শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমে এবং ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়ে।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: যারা উচ্চ রক্তচাপে ভোগেন, তাদের জন্য রোজা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
৫. কিছু জরুরি টিপস
ব্যায়াম: ইফতারের ১-২ ঘণ্টা পর হালকা হাঁটাহাঁটি করা ওজন কমানোর জন্য খুব কার্যকর।
পর্যাপ্ত ঘুম: ঘুমের অভাব হলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা ওজন বাড়াতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুমানোর চেষ্টা করুন।
পানি পান: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অল্প অল্প করে অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন যেন শরীর ডিহাইড্রেটেড না হয়।

