রোজা রাখা শরীর এবং মনের ওপর গভীর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, সঠিক নিয়ম মেনে রোজা রাখলে শরীরের অনেক বড় বড় সমস্যার সমাধান হয়। তবে নিয়ম না মানলে কিছু সাময়িক সমস্যা বা ক্ষতিও হতে পারে।
নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. রোজার শারীরিক উপকারিতা (বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা)
অটোফ্যাজি (কোষের মেরামত): নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওশুমি প্রমাণ করেছেন যে, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে শরীরের সুস্থ কোষগুলো অসুস্থ বা মৃত কোষগুলোকে খেয়ে ফেলে শরীরকে পরিষ্কার করে। একে ‘অটোফ্যাজি’ বলে, যা ক্যান্সার ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমায়।
ওজন নিয়ন্ত্রণ ও চর্বি কমানো: রোজা রাখলে শরীর শর্করার বদলে চর্বি পুড়িয়ে শক্তি উৎপন্ন করে, যা ওজন কমাতে এবং লিভারের চর্বি (Fatty Liver) কমাতে সাহায্য করে।
হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস: রোজা রাখলে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমে এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে, ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স নিয়ন্ত্রণ: রোজা রাখলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে, যা টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
পরিপাকতন্ত্রের বিশ্রাম: সারাবছর একটানা কাজ করার পর পাকস্থলী ও লিভার বিশ্রাম পায়, ফলে হজম প্রক্রিয়া আরও উন্নত হয়।
মানসিক প্রশান্তি: রোজা রাখলে মস্তিষ্কে ‘ব্রেইন-ডিরাইভড নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর’ (BDNF) নামক প্রোটিন বাড়ে, যা বিষণ্ণতা কমায় এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে।
২. রোজার সম্ভাব্য কিছু সাময়িক সমস্যা বা ক্ষতি
সাধারণত যারা অসুস্থ বা যারা ভুল খাদ্যতালিকা অনুসরণ করেন, তাদের কিছু সমস্যা হতে পারে:
ডিহাইড্রেশন (পানিশূন্যতা): ইফতার থেকে সেহরির মধ্যে পর্যাপ্ত পানি পান না করলে প্রস্রাবে ইনফেকশন, মাথাব্যথা বা ক্লান্তি হতে পারে।
গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটি: ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া এবং মশলাযুক্ত খাবার খেলে বুক জ্বালাপোড়া ও পেটের সমস্যা হতে পারে।
রক্তে শর্করা কমে যাওয়া (Hypoglycemia): যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, তাদের রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে গিয়ে মাথা ঘুরতে পারে। (তাদের ডাক্তারের পরামর্শে রোজা রাখা উচিত)।
কোষ্ঠকাঠিন্য: সেহরি ও ইফতারে আঁশযুক্ত খাবার (শাকসবজি, ফল) কম খেলে এই সমস্যা হতে পারে।
সুস্থভাবে রোজা রাখার উপায় (ক্ষতি এড়াতে)
১. প্রচুর পানি পান: ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত অন্তত ৮-১০ গ্লাস পানি পান করুন।
২. ভাজাপোড়া পরিহার: ইফতারে বেগুনি-পিঁয়াজুর বদলে ফল, দই-চিঁড়া বা স্যুপ খান।
৩. সেহরি না খেয়ে রোজা না রাখা: সেহরি খাওয়া সুন্নাহ এবং এটি শরীরকে শক্তি জোগায়। সেহরি বাদ দিলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম: শরীরের মেরামত প্রক্রিয়ার জন্য অন্তত ৬-৭ ঘণ্টা ঘুম খুব জরুরি।
সারসংক্ষেপ: সুস্থ ব্যক্তির জন্য রোজা মূলত একটি ‘ডিঅক্সিন’ বা শরীর পরিষ্কার করার প্রক্রিয়া। এটি শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় বরং রোগ প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী মাধ্যম।

