রোজা একটি অত্যন্ত পবিত্র ইবাদত যা সরাসরি আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল। আপনার প্রশ্নের উত্তর নিচে বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:
লুকিয়ে খেলে কি রোজা ভাঙবে?
হ্যাঁ, লুকিয়ে খেলে অবশ্যই রোজা ভেঙে যাবে। ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, রোজা কেবল মানুষের সামনে না খেয়ে থাকার নাম নয়, এটি আল্লাহর জন্য উৎসর্গকৃত একটি আমল। মানুষ আপনাকে না দেখলেও আল্লাহ সব দেখেন। তাই কেউ যদি লোকচক্ষুর অন্তরালে গিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু পানাহার করে, তবে তার রোজা সাথে সাথেই ভেঙে যাবে। এটি আল্লাহর সাথে এক ধরণের ‘খিয়ানত’ বা বিশ্বাসভঙ্গ হিসেবে গণ্য হয়।
ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙে দিলে যা হয়
যদি কেউ সুবহে সাদিকের পর নিয়ত করার পর ইচ্ছাকৃতভাবে (কোনো শরয়ি কারণ বা অসুস্থতা ছাড়াই) রোজা ভেঙে ফেলে, তবে তাকে দুটি কাজ করতে হবে:
কাজা করা: যে রোজাটি ভেঙেছেন, তার পরিবর্তে অন্য সময়ে একটি রোজা রাখতে হবে।
তওবা করা: এটি একটি বড় গুনাহ, তাই আল্লাহর কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যদি কেউ রোজা রেখে দিনের বেলা ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সহবাস করে, তবে তাকে কাফফারা দিতে হবে। অর্থাৎ টানা ৬০টি রোজা রাখতে হবে। যদি শারীরিক অক্ষমতার কারণে তা সম্ভব না হয়, তবে ৬০ জন মিসকিনকে দুই বেলা খাবার খাওয়াতে হবে।
ভুলবশত খেলে কি হবে?
এখানে একটি সুন্দর সমাধান আছে। আপনি যদি ভুলবশত (অর্থাৎ আপনার মনেই নেই যে আপনি রোজা রেখেছেন) কিছু খেয়ে ফেলেন বা পান করেন, তবে আপনার রোজা ভাঙবে না। * যখনই আপনার মনে পড়বে যে আপনি রোজা, তখনই খাওয়া বন্ধ করে মুখ পরিষ্কার করে নিতে হবে।
বাকি দিনটি যথারীতি রোজা পূর্ণ করতে হবে।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওই বান্দার জন্য একটি আপ্যায়ন বা মেহমানদারি।
রোজা ভঙ্গের অন্যান্য সাধারণ কারণ
খাবার বা পানীয় ছাড়াও আরও কিছু কারণে রোজা ভেঙে যায়:
নাক বা কানের ভেতর দিয়ে কোনো ওষুধ বা তরল পেটে পৌঁছে গেলে।
ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করলে।
দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা ছোলার দানার চেয়ে বড় কোনো কণা গিলে ফেললে।
সংক্ষেপে: রোজা কেবল পেট নয়, মনেরও পরীক্ষা। লুকিয়ে খেয়ে মানুষকে ফাঁকি দেওয়া গেলেও আল্লাহকে দেওয়া যায় না।

