Monday, 23 February, 2026

রোজা বা সিয়াম কীভাবে পালন করতে হয়? (রোজা রাখার নিয়ম/সময়)

চাষির প্রশ্নরোজা বা সিয়াম কীভাবে পালন করতে হয়? (রোজা রাখার নিয়ম/সময়)
ফরিদুল asked 3 weeks ago

রোজা বা সিয়াম কীভাবে পালন করতে হয়? (রোজা রাখার নিয়ম/সময়)

1 Answers
এগ্রোবিডি২৪ Staff answered 2 weeks ago

রোজা বা সিয়াম পালন করা কেবল না খেয়ে থাকা নয়, বরং এটি একটি নির্দিষ্ট নিয়ম ও নিয়তের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়। নিচে রোজা রাখার সঠিক নিয়ম ও সময়সীমা তুলে ধরা হলো:

রোজা রাখার সময়সীমা

রোজার সময়কাল শুরু হয় সুবহে সাদিক (ভোরের আলো ফোটার ঠিক আগে) থেকে এবং শেষ হয় সূর্যাস্ত পর্যন্ত।

  1. সেহরি: রোজা রাখার উদ্দেশ্যে শেষ রাতে খাবার খাওয়াকে সেহরি বলে। এটি সুন্নাহ এবং এতে অনেক বরকত রয়েছে। ফজরের আজানের আগেই সেহরি শেষ করতে হয়।

  2. ইফতার: সূর্যাস্তের পরপরই পানি বা খাবার খেয়ে রোজা ভাঙাকে ইফতার বলে। দেরি না করে দ্রুত ইফতার করা উত্তম।

রোজা রাখার সঠিক নিয়ম (ধাপে ধাপে)

রোজার পূর্ণতা পাওয়ার জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা জরুরি:

  • ১. নিয়ত করা: রোজা রাখার জন্য মনে মনে সংকল্প বা নিয়ত করা ফরজ। মুখে উচ্চারণ করা জরুরি নয়, তবে অন্তরে এই ইচ্ছা থাকা চাই যে— “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আগামীকাল রোজা রাখছি।”

  • ২. পানাহার থেকে বিরত থাকা: সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো কিছু পান করা বা খাওয়া যাবে না। এমনকি অনিচ্ছাকৃতভাবে বড় কিছু গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যেতে পারে (তবে ভুলবশত খেলে রোজা ভাঙে না)।

  • ৩. জৈবিক চাহিদা বর্জন: রোজার সময় দিনের বেলা স্বামী-স্ত্রীর মিলন বা যেকোনো প্রকার কামস্পৃহা চরিতার্থ করা নিষিদ্ধ।

  • ৪. অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রোজা: শুধু পেট নয়, বরং চোখ, কান ও জিহ্বারও রোজা আছে। মিথ্যা বলা, গিবত (পরনিন্দা) করা, ঝগড়া করা বা অশ্লীল কিছু দেখা থেকে বিরত থাকতে হবে।

রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ

কিছু কাজ করলে রোজা ভেঙে যায় এবং পরবর্তীতে তা কাজা (একটি রোজার বদলে একটি) আদায় করতে হয়:

  • ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করলে।

  • ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করলে।

  • স্ত্রী সহবাস করলে (এক্ষেত্রে কাফফারা বা ৬০টি রোজা রাখা আবশ্যক হতে পারে)।

  • নাক বা কানে ওষুধ বা তরল প্রবেশ করালে যা পাকস্থলীতে পৌঁছে যায়।

রোজা সহজ করার কিছু টিপস

বিষয়করণীয়
খাবারসেহরিতে জটিল শর্করা (লাল চাল, রুটি) এবং প্রোটিন রাখুন যেন দীর্ঘ সময় ক্ষুধা না লাগে।
পানিইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করুন যেন ডিহাইড্রেশন না হয়।
বিশ্রামদুপুরের দিকে কিছুটা সময় বিশ্রাম নিলে শরীরে ক্লান্তি কম অনুভূত হয়।

একটি বিশেষ নোট: অসুস্থ ব্যক্তি, মুসাফির (ভ্রমণকারী), গর্ভবতী মা বা দুগ্ধদানকারী মায়েদের জন্য ইসলামে রোজার শিথিলতা রয়েছে। তারা পরবর্তীতে এই রোজাগুলো কাজা করে নিতে পারেন।

জনপ্রিয় লেখা