
গত চার বছরের তুলনায় বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং ডলারের বাজারও আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল। কিন্তু আমদানিকৃত ফলের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সেই ১০০ শতাংশ নগদ মার্জিনের খড়্গ এখনো নামেনি। ফলে খুচরা বাজারে ফলের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
দামের আকাশ-পাতাল পার্থক্য: ২০২২ বনাম ২০২৬
২০২২ সালে এলসি মার্জিন বাড়ানোর আগে যে দাম ছিল, বর্তমান বাজারদর তার প্রায় দ্বিগুণ। নিচে একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো:
| ফলের নাম | ২০২২ সালের দাম (প্রতি কেজি) | ২০২৬ সালের দাম (প্রতি কেজি) |
| কমলা | ১৮০ টাকা | ৩৩০ টাকা |
| আপেল | ২২০ – ২৮০ টাকা | ২৮০ – ৪০০ টাকা |
| আঙুর | ৪০০ – ৪৫০ টাকা | ৪৫০ – ৬০০ টাকা |
| মাল্টা/ট্যানজারিন | ২৫০ – ২৭০ টাকা | ৩২০ টাকা |
কেন কমছে না দাম?
আমদানিকারকদের মতে, প্রধান সমস্যা হলো ‘১০০ শতাংশ নগদ মার্জিন’।
মূলধন আটকে যাওয়া: আগে ব্যাংকগুলোর সাথে সুসম্পর্কের ভিত্তিতে আংশিক অর্থ জমা দিয়ে এলসি খোলা যেত। এখন আমদানিকারকদের পুরো টাকা আগেই ব্যাংকে জমা দিতে হয়। এতে বড় অংকের মূলধন আটকে যায় এবং ছোট ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ছেন।
বিলাসদ্রব্যের তকমা: সরকার ফলকে গাড়ি, সোনা বা দামী ইলেকট্রনিক্সের সাথে ‘লাক্সারি গুডস’ বা বিলাসদ্রব্য হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ফল কোনো বিলাসদ্রব্য নয়, এটি মানুষের পুষ্টির জন্য অপরিহার্য খাদ্য।
মধ্যবিত্তের ইফতারে ফলের বদলে ‘তেলে ভাজা’
চলতি রমজানে ফলের উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবার স্বাস্থ্যকর ফলের পরিবর্তে সস্তা ও অস্বাস্থ্যকর ভাজাপোড়া খাবারের দিকে ঝুঁকছে। ঢাকার একজন গৃহিণী আক্ষেপ করে বলেন, “তিনটি কমলার দাম ২৮০ টাকা চাইলে সাধারণ মানুষ ফল কিনবে কীভাবে? বাধ্য হয়ে ১০০ টাকায় ১০টি খেজুর কিনে ইফতার করতে হচ্ছে।”
অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মতামত
কৃষি অর্থনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম খান: তিনি মনে করেন, ফলের ওপর থেকে এলসি মার্জিন ও শুল্ক অবিলম্বে তুলে নেওয়া উচিত, বিশেষ করে রমজানের সময়। ফল বিলাসদ্রব্য নয়।
সিপিডির ড. ফাহমিদা খাতুন: তিনি কিছুটা সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তার মতে, রিজার্ভের সুরক্ষায় নিয়ন্ত্রণ একেবারে তুলে না দিয়ে ধীরে ধীরে এবং বেছে বেছে শিথিল করা যেতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংক: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, ডলার বাজার পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি আরও উন্নত হলে ফলের ওপর থেকে এই কড়াকড়ি তুলে নেওয়া হবে।
পর্যবেক্ষণ: রিজার্ভ বাঁচাতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ যৌক্তিক হতে পারে, কিন্তু যখন একটি পরিবারের পুষ্টির জোগান বিঘ্নিত হয়, তখন ‘বিলাসদ্রব্য’ তকমাটি নিয়ে পুনরায় ভাববার সময় এসেছে। বিশেষ করে যখন আমদানিকারকদের দাবি—ডলার এখন বাজারে সহজলভ্য।

