
দেশে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি দুগ্ধজাত পণ্য রপ্তানির সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি জানান।
সোমবার (১ জুন) রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘দুগ্ধ উৎপাদনে নারী খামারি: উন্নয়নের অগ্রযাত্রা’।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারী খামারিদের ভূমিকা
দুগ্ধ খাতের উন্নয়নে নারীদের অবদানের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন:
“তৃণমূল পর্যায়ে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ যত বাড়বে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তত বেশি ত্বরান্বিত হবে। নারীরা স্বাবলম্বী হলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড়াবে। বর্তমান সময়ে দুগ্ধ খামারসহ বিভিন্ন কৃষিভিত্তিক খাতে নারীদের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ পুরো সমাজের জন্যই এক দারুণ আশাব্যঞ্জক দিক।”
তিনি আরও বলেন, দুগ্ধ খাতে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে কেবল উৎসাহ দিলেই হবে না; তাদের আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনায় দক্ষ করে তুলতে সরকারি উদ্যোগে আরও উন্নত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
দুগ্ধ দিবসে নানা কর্মসূচি ও দুধ বিতরণ
আলোচনা সভার আগে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর প্রাঙ্গণে মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে পুষ্টিকর দুধ বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। এরপর একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা (র্যালি) প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে শুরু হয়ে খামারবাড়ি মোড় ঘুরে কেআইবি প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়।
একই সাথে ভেটেরিনারি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ভিডিএবি) উদ্যোগে প্রাণিসম্পদ ভবনের সামনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে দুধ বিতরণ করা হয়। এ সময় সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. আব্দুর রহিম এবং মহাসচিব ডা. কবির উদ্দিন আহমেদসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এক নজরে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২৬ (বাংলাদেশ):
| বিষয়ের নাম | বিস্তারিত তথ্য |
| দিবস ও বছর | বিশ্ব দুগ্ধ দিবস ২০২৬ (১ জুন)। |
| এ বছরের প্রতিপাদ্য | ‘দুগ্ধ উৎপাদনে নারী খামারি: উন্নয়নের অগ্রযাত্রা’। |
| প্রধান লক্ষ্য | উৎপাদন বৃদ্ধি, আমদানি হ্রাস ও ভবিষ্যতে রপ্তানি। |
| বিশেষ উদ্যোগ | এতিম ও দুস্থদের মাঝে দুধ বিতরণ এবং নারী খামারিদের প্রশিক্ষণ। |
টেকসই দুগ্ধ শিল্পের রূপরেখা
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান এবং স্বাগত বক্তব্য দেন পরিচালক ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ।
বক্তারা বলেন, খামারিদের দুগ্ধ উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ দুগ্ধ শিল্পে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে। দুগ্ধ শিল্পের এই অগ্রযাত্রাকে টেকসই করতে বেসরকারি খাত এবং দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ কোম্পানিগুলোকে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।

