
দেশে সারের উৎপাদন ঘাটতি মোকাবিলা এবং কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে জরুরি ভিত্তিতে ৭ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। গতকাল সোমবার (১৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৬তম দিনের কার্যক্রমে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানানো হয়।
বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা তুলে ধরেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
আমদানির উৎস ও পরিকল্পনা
সংসদে শিল্পমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের সার কারখানাগুলোর মধ্যে কেবল ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি উৎপাদনে রয়েছে। দেশের সারের চাহিদা মেটাতে জিটুজি (G2G) চুক্তির আওতায় তিনটি ভিন্ন উৎস থেকে সার সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে:
সৌদি আরব (সাবিক): অতিরিক্ত ২ লাখ টন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত (ফার্টিগ্রোব): অতিরিক্ত ১ লাখ টন।
আন্তর্জাতিক কোটেশন পদ্ধতি: ৪ লাখ টন ইউরিয়া সার।
কারখানা চালুর সুখবর
গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়েও আশার কথা শুনিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন:
“জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যাবে। আশা করছি সেদিন থেকেই কারখানাটি চালু করা সম্ভব হবে।”
তিনি আরও জানান, জিটুজি পদ্ধতিতে অথবা টেন্ডারের মাধ্যমে শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত জ্বালানি ও কাঁচামাল সংগ্রহের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ডিএপি কারখানায় উৎপাদন বন্ধের প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে গত শনিবার থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শিল্পমন্ত্রীর এই নতুন ঘোষণা দেশের সার সংকট নিরসনে এবং সার কারখানাগুলো সচল করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

