
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “এ দেশে প্রধান পেশা কৃষি। দেশের চার কোটি পরিবারের প্রায় প্রতিটি পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা বিশ্বাস করি এই দেশের কৃষক যদি সচ্ছল থাকেন, কৃষক যদি বেঁচে থাকেন এবং ভালো থাকেন তাহলে পুরো বাংলাদেশ ভালো থাকতে পারবে। বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকতে পারবে।”
গত মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ঐতিহাসিক ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে কৃষককে আত্মনির্ভরশীল ও সচ্ছল হিসেবে গড়ে তোলা।
প্রথম পর্যায়ে ২২ হাজার কৃষক পাবেন কার্ড
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে ১১টি উপজেলায় পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে কৃষক কার্ড প্রদানের অনুষ্ঠানটি শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষককে এই কার্ডের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত দুই কোটি ৭৫ লাখ কৃষকের কাছে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, “নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম তার মধ্যে এই কার্ডও ছিল।”
কৃষি ঋণ মওকুফ ও অন্যান্য প্রতিশ্রুতি পূরণ
তারেক রহমান বলেন, “নির্বাচনের আগে আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম কৃষকদের জন্য সুদসহ ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ মওকুফ করব। নির্বাচনের পর সরকারের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই আমরা সেই কাজটি সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি। যার মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেগুলো পূরণে আমরা কাজ শুরু করেছি।”
সেচ ব্যবস্থা ও খাল খনন কর্মসূচির পুনরুজ্জীবন
দেশ স্বাধীনের পর কৃষকদের ফসল ফলানোর ক্ষেত্রে সেচ একটি বড় সমস্যা ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন, যার মাধ্যমে এক বছরের মধ্যে বাংলাদেশ কৃষিতে মোটামুটিভাবে ফসলে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছিল।
সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেন, “আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব ইনশাআল্লাহ। এর মাধ্যমে কৃষকের দ্বারে সেচের পানি পৌঁছে দিতে চাই।”
এই খাল খননের আরও কিছু লক্ষ্য রয়েছে বলে তিনি জানান:
বন্যার সময় অতিরিক্ত বর্ষণ বা সীমান্ত থেকে আসা হঠাৎ পানির সমস্যা মোকাবিলা করা।
সেই পানিকে পরবর্তী সময়ের জন্য ধরে রাখা।
ভয়াবহ আন্ডারগ্রাউন্ড ওয়াটার লেভেল (ভূগর্ভস্থ পানির স্তর) রিচার্জ করা এবং আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা, যা দীর্ঘদিন ডিপ টিউবওয়েল ব্যবহারের ফলে নিচে নেমে গেছে।
কৃষকদের জন্য কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ
কৃষকরা অনেক ফসল ফলালও তা সংরক্ষণের অভাবে সঠিক দাম পান না। দেশে পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ বা প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র নেই। এই সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমরা কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করব, যাতে কৃষকরা ফসল সংরক্ষণ করে পরে ভালো দামে বিক্রি করতে পারেন। একই সঙ্গে মানুষ সিজনের পরও সেই ফসলের সুবিধা পায়। এই বিষয়ে আমরা বাইরের দেশের সঙ্গে কথা বলেছি এবং তারা সহযোগিতা করতে উৎসাহী। দেশের অনেক ব্যবসায়ীও এই উদ্যোগে উৎসাহিত।”
অন্যান্য কার্যক্রম ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ
কৃষক কার্ড উদ্বোধন ও ভাষণের পর প্রধানমন্ত্রী পৌর উদ্যানে কৃষিমেলার উদ্বোধন করেন। বিকেলে তিনি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করেন।
কার্ড বিতরণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং বিশ্বখাদ্য ও কৃষি সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিয়াকুন শি। কৃষকদের পক্ষ থেকে কৃষক কবির হোসেন ও কৃষানি জুলেখা বেগমও বক্তব্য দেন।

