অপেক্ষার প্রহর শেষ হচ্ছে আমপ্রেমীদের। চলতি সপ্তাহেই বাজারে আসছে মধুমাসের সওগাত রাজশাহীর আম। আগামী ১৫ মে (শুক্রবার) থেকে ‘গুটি’ আম পাড়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে এবারের আমের মৌসুম। পর্যায়ক্রমে নামানো হবে গোপালভোগ, হিমসাগর ও ল্যাংড়াসহ অন্যান্য সুস্বাদু জাতের আম।
রবিবার (১০ মে) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আম সংগ্রহ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।
ম্যাংগো ক্যালেন্ডার ২০২৬: কোন আম কবে আসবে?
পরিপক্ব ও নিরাপদ আম নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন আমচাষি ও কৃষি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি সময়সূচি বা ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ প্রকাশ করেছে। সূচি অনুযায়ী আম নামানোর তারিখগুলো হলো:
| আমের জাত | পাড়ার শুরু (তারিখ) |
| গুটি আম (সব জাত) | ১৫ মে |
| গোপালভোগ | ২২ মে |
| রানীপছন্দ ও লক্ষণভোগ | ২৫ মে |
| হিমসাগর (খিরসাপাত) | ৩০ মে |
| ল্যাংড়া ও বানানা ম্যাংগো | ১০ জুন |
| আম্রপালি ও ফজলি | ১৫ জুন |
| বারি আম-৪ | ৫ জুলাই |
| আশ্বিনা | ১০ জুলাই |
| গৌড়মতি | ১৫ জুলাই |
| কাটিমন ও বারি আম-১১ | সারা বছর |
ফলন ও বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় আমের উৎপাদন ও বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা বেশ ইতিবাচক।
আবাদের পরিমাণ: ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমি।
সম্ভাব্য মোট উৎপাদন: ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ মেট্রিক টন।
হেক্টর প্রতি গড় উৎপাদন: ১২.৮০ মেট্রিক টন।
সম্ভাব্য বাজারমূল্য: প্রায় ৭৮০ কোটি টাকা।
কঠোর নজরদারিতে প্রশাসন
অসাধু উপায়ে রাসায়নিক দিয়ে আম পাকানো বা নির্ধারিত সময়ের আগে আম নামানো রোধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে। জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন:
“নির্ধারিত সময়ের আগে কোনোভাবেই গাছ থেকে আম নামানো যাবে না। প্রতিটি উপজেলায় স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিষয়টি কঠোরভাবে তদারকি করবেন। এছাড়া যানজট নিরসনে সড়কের ওপর কোনো আমের হাট বসতে দেওয়া হবে না।”
নিরাপদ আম নিশ্চিত করার উদ্যোগ
সভায় জানানো হয়, বাগান থেকে আম সংগ্রহ করে গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আম পরিবহনে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়েও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

