Wednesday, 28 October, 2026

শখের ফল বাগান এখন বাণিজ্যিক বাগান দেলোয়ার হোসেনের


তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. দেলোয়ার হোসেন টাঙ্গাইলের বাসিন্দা। জেলার মির্জাপুর উপজেলার বাঁশতৈল ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামে বসবাস তার। ২০১৫ সালে শখের ফলের বাগান শুরু করেন ১০০ পেয়ারা গাছের চারা দিয়ে। ২০১৮ সালের অক্টোবরে করেন মাল্টা বাগান। বাগানে প্রথম ৮৫টি মাল্টাগাছ লাগান তিনি। তাঁর বাগানে ১ হাজার ১০০টি গাছে মাল্টা ধরেছে বর্তমানে। দেলোয়ারের শখের ফল বাগান এখন বাণিজ্যিক বাগান।

চলতি মৌসুমে তরুণ এই কৃষি উদ্যোক্তা শুধু মাল্টাই ছয় লাখ টাকায় বিক্রি করার আশা করছেন। তার মতে ছয় লাখ টাকায় মাল্টা বিক্রি হলে লাভ থাকবে অন্তত চার লাখ টাকা। বাগানের অন্যান্য ফল বিক্রি করেও বেশ মুনাফা হবে। যেহেতু ফল গাছ সব প্রাপ্তবয়স্ক এবং আগামী বছর উৎপাদন খরচ কমে যাবে। তখন আরও বেশি লাভ হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

শখের ফলবাগান

আরো পড়ুন
দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন ও প্রজনন রক্ষায় সরকারের বড় পরিকল্পনা: মন্ত্রী আমিন উর রশিদ
দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বৃদ্ধি এবং হারিয়ে যাওয়া প্রজনন ক্ষেত্রগুলো রক্ষায় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বৃদ্ধি এবং হারিয়ে যাওয়া প্রজনন ক্ষেত্রগুলো রক্ষায় ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এজন্য দেশের বিভিন্ন হাওর, Read more

রংপুরে জনপ্রিয় হচ্ছে জৈব সার: মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি খুলছে আয়ের পথ

রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মাটির উর্বরতা বাড়াতে রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে জৈব সার প্রস্তুত ও ব্যবহারের প্রবণতা আশানুরূপভাবে বাড়ছে। Read more

দেলোয়ার পরিকল্পনা করে  পর্যায়ক্রমে বাগানের জমির আয়তন ও বিভিন্ন ধরনের ফলগাছের সংখ্যা বাড়াতে থাকেন। বর্তমানে ৪ হাজার পেয়ারা, ১১০০ মাল্টা, ৬০০ লেবু, ৩০০ কলা, ৩৫০ পেঁপে, ২৬০ আম, ৮৫ দার্জিলিংয়ের কমলা, ৬৪ চায়না কমলা রয়েছে।

এছাড়াও রয়েছে আমড়া, লটকন, কতবেল, জাম্বুরা, ডালিম, চেরি ফল ও রামবুটান গাছ।  এখন তিনি পেয়ারা, আমড়া, বারোমাসি আম বিক্রি করা  শুরু করেছেন দেলোয়ার হোসেন।

পাঁচগাঁও গ্রামে দেলোয়ার হোসেন এর ফল বাগানে গেলে দেখা যায়, মাল্টা ঝুলছে বাগানের প্রতিটি গাছেই। মাল্টাগুলো ক্রেতা ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে কিনে নিচ্ছেন। এ ছাড়া আকার ভেদে কেজি দরে পেঁপে, পেয়ারা এবং আমড়া বিক্রি হচ্ছে।

পেয়ারা চাষে ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন দেলোয়ার হোসেন। কিন্তু মাল্টা চাষে ব্যাগিং পদ্ধতির প্রয়োজন হয় না। সময়মতো সার ও কীটনাশক প্রয়োগের সাথে ঠিকমতো যত্ন নিলেই মাল্টার ফলন হয়। তিনি নাটোর  দিনাজপুর ও ঝিনাইদহ থেকে চারা এনেছেন বলে জানান।

দেলোয়ার হোসেনের বাগানে বর্তমানে নিয়মিত চারজন শ্রমিক এবং বেশ কিছু অনিয়মিত  শ্রমিক কাজ করেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগও দেলোয়ারের উদ্যোগ দেখে  তাঁকে সহায়তা করছে।

পাঁচগাঁও গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে পঞ্চম। ২০০২ সালে এসএসসি পাস করেন গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরের আনসার ভিডিপি উচ্চবিদ্যালয় থেকে ।

ঢাকা কলেজ থেকে ২০০৪ সালে এইচএসসি এবং ২০১১ সালে স্নাতক (সম্মান) ও ২০১৪ সালে স্নাতকোত্তর পাস করেন ঢাকার তিতুমীর কলেজ থেকে। ঢাকায় একটি বায়িং হাউসে কাজ শুরুর পাশাপাশি গড়ে তোলেন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান।

২০১৫ সালে দুই ব্যবসায়  লোকসান হলে  গ্রামের বাড়ি ফিরে নিজেদের জমিতে পেয়ারাগাছ লাগিয়ে ফলের বাগান শুরু করেন। এবার আর পেছনে তাকাতে হয়নি।নিজ প্রচেষ্টা, পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে আরও বড় সাফল্যের দিকে ক্রমান্বয়ে ছুটে চলেছেন তরুণ এই উদ্যোক্তা।

0 comments on “শখের ফল বাগান এখন বাণিজ্যিক বাগান দেলোয়ার হোসেনের”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ