
বাগেরহাটে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকারি কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলাজুড়ে ৭ হাজার ৫১৩ মেট্রিক টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে খাদ্য বিভাগ।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম প্রাঙ্গণে এই ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ।
ধানের নির্ধারিত দাম ও মান
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির ক্ষেত্রে কৃষকরা প্রতি কেজি ধানের জন্য ৩৬ টাকা পাবেন। সেই হিসেবে প্রতি মণ ধানের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৪৪০ টাকা।
তবে গুদামে ধান সরবরাহের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে:
ধানের আর্দ্রতা (Moisture) সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ হতে হবে।
ধান অবশ্যই পরিষ্কার ও মানসম্মত হতে হবে।
উপজেলাভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা
বাগেরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা বণ্টন করা হয়েছে:
চিতলমারী: ১,৩৬৩ মেট্রিক টন (সর্বোচ্চ)।
বাগেরহাট সদর: ১,২১২ মেট্রিক টন।
মোড়লগঞ্জ: ৯৭০ মেট্রিক টন।
ফকিরহাট: ৯৪৫ মেট্রিক টন।
মোল্লাহাট: ৯০৮ মেট্রিক টন।
কচুয়া: ৮৫৩ মেট্রিক টন।
রামপাল: ৫৩২ মেট্রিক টন।
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রুখতে কড়া হুঁশিয়ারি
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন। তিনি শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন:
“আমরা এবার ১০০ শতাংশ ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। প্রান্তিক কৃষকরা যাতে কোনো ধরনের হয়রানি বা মধ্যস্বত্বভোগীদের হস্তক্ষেপ ছাড়াই সরাসরি গুদামে ধান বিক্রি করতে পারেন, সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতিয়া খাতুন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল পারভেজ এবং সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাকির হোসেনসহ স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষক প্রতিনিধিরা।
কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, সরকারের এই সরাসরি ধান সংগ্রহ অভিযানের ফলে বাজারে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং কৃষকরা সরাসরি লাভবান হবেন।

