ঝিনাইদহ সদর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নে একটি বিতর্কিত ও সরকারি মালিকানাধীন জলাশয় থেকে রাতের আঁধারে মাছ লুটের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১০ মে) ভোররাত ৩টা থেকে সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে একদল ভাড়াটে জেলে নামিয়ে এই মাছ শিকার করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
শেষ রাতের ঝটিকা অভিযান
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, শনিবার শেষ রাতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে জলাশয়টিতে জাল ফেলে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিপুল পরিমাণ মাছ ধরে নিয়ে যায় তারা। মাছ ধরার পরপরই লুটপাটের চিহ্ন মুছে ফেলতে তড়িঘড়ি করে স্থানটি পরিষ্কার করে ফেলা হয়।
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ ও মামলা
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৯৬২ সালের রেকর্ড অনুযায়ী জলাশয়টি সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত। তবে ১৯২৬ সালের সিএস রেকর্ড অনুযায়ী এটিকে দেবোত্তর সম্পত্তি দাবি করে একটি মন্দির কমিটি আদালতে মামলা করেছে। বর্তমানে সম্পত্তিটির মালিকানা নিয়ে আদালতে আইনি লড়াই চলমান থাকা অবস্থায় এই মাছ চুরির ঘটনা ঘটলো।
স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের বক্তব্য
মাছ লুটের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নলডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামান হাসু সংবাদমাধ্যমকে বলেন:
“আমি বিষয়টি শুনেছি। ক্যাম্প পুলিশের কাছে বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে দেখছি আসলে এর নেপথ্যে কারা রয়েছে।”
নলডাঙ্গা ক্যাম্পের ইনচার্জ এএসআই রাশিদুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। তবে সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আগেই চক্রটি পালিয়ে যায়।
কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ইউএনও-র
বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারেক হাসান বলেন:
“বিষয়টি অবগত হওয়ার পরপরই আমি একটি তদন্ত টিম পাঠিয়েছি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন কোনো ছাড় দেবে না।”
এলাকার পরিস্থিতি
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই সরকারি জলাশয়টির ওপর কুদৃষ্টি রয়েছে প্রভাবশালী মহলের। আদালতের মামলার সুযোগ নিয়ে রাতের অন্ধকারে সম্পদ লুট করার ঘটনায় জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অতি দ্রুত এই চক্রটিকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

