Tuesday, 03 November, 2026

ইলিশ মাছ আহরনে নিষেধাজ্ঞা মৎসজীবীদের স্বার্থেই দেয়া


আবারও ইলিশ মাছ আহরনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।  মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। এমনটাই জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

গত বুধবার মৎস্য অধিদপ্তরে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় তার বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

শ ম রেজাউল করিম তার বক্তব্যে বলেন, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও অভিযান পরিচালনা করা হয় মূলত মৎস্যজীবীদের স্বার্থেই । এটি জাতীয় স্বার্থ।  যারা এটি ধ্বংস করতে চাইবে, তাদের বিষয়ে কোনো ধরনের বিবেচনা বা অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই বলে মন্ত্রী হুশিয়ারি দেন।

আরো পড়ুন
তেলাপিয়া মাছের শীতকালীন রোগ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক পরিচর্যা

বাণিজ্যিক মৎস্য চাষে তেলাপিয়া অন্যতম লাভজনক ও জনপ্রিয় মাছ। তবে শীতকালে তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে পুকুরের পরিবেশ এবং মাছের Read more

স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি: কম খরচে লাভজনক আনারকলি (Passion Fruit) চাষ পদ্ধতি ও যত্ন
বাংলাদেশে আনারকলি চাষ

বাংলাদেশের কৃষিতে সাম্প্রতিক সময়ে অপ্রচলিত ফল ও সবজি চাষে বিপ্লব ঘটেছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি উচ্চমূল্যের ও লাভজনক নাম হলো Read more

যতটা কঠিন হবার প্রয়োজন, ততটাই হতে হবে

মন্ত্রী আরও সতর্ক করেন, এ ক্ষেত্রে কঠিন থেকে কঠিনতর পদক্ষেপ নিতে সরকার কোন প্রকার কুণ্ঠাবোধ করবে না। দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় যতটা কঠিন হওয়া  প্রয়োজন হবে, ঠিক ততটাই কঠিন হতে হবে।

কাউকে এ বিষয়ে এক চুল পরিমাণ ছাড় দেয়ার অবকাশ নেই বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন  কোনোভাবেই মৎস্য খাতকে ধ্বংস হতে দেয়া হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা, নজরদারি ও পৃষ্ঠপোষকতায় মাছে-ভাতে বাঙালির বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার ও কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

খাদ্যের চাহিদা পূরণ থেকে শুরু করে বেকারত্ব দূরীকরণ,  উদ্যোক্তা তৈরি ও  গ্রামীণ অর্থনীতি সচল হচ্ছে মৎস্যসম্পদ রক্ষার মাধ্যমে । একই সাথে এতে দেশের রপ্তানি আয় বাড়ছে।’

টাস্কফোর্সের এই সভায় চলতি বছর প্রধান প্রজনন মৌসুমে ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ শিকার বন্ধ থাকবে মর্মে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একই সাথে সারা দেশে ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, বিপণন, পরিবহন, মজুত ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ রাখার ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

শুধু ইলিশই নয়, ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে সব ধরনের মৎস্য শিকার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। টাস্কফোর্স জানায় ইলিশের নিরাপদ প্রজননের স্বার্থে ও মা-ইলিশ সংরক্ষণে এ কার্যক্রম নেয়া হয়েছে।

সাধারণত ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ে আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমার আগে-পরে প্রায় ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে। সাগরের নোনা জল ছেড়ে এই সময়ে তাই নদীমুখে ছুটে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ।

প্রতিবছর এ সময়টাতে মা-ইলিশ রক্ষার অংশ হিসেবে বেশ কয়েক বছর ধরেই ইলিশ ধরা বন্ধ রেখে আসছে সরকার। এ উদ্যোগ মূলত মা-ইলিশ যেন নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পায় সেটি নিশ্চিত করতেই  নেয়া হয়। দেশে ইলিশের উৎপাদন এর ফলে  বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ।

0 comments on “ইলিশ মাছ আহরনে নিষেধাজ্ঞা মৎসজীবীদের স্বার্থেই দেয়া”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ