Sunday, 01 November, 2026

২০৩০ সালের মধ্যে পশুখাদ্যের বার্ষিক চাহিদা বেড়ে কোটি টনে পৌঁছাবে


পোল্ট্রি ও মাংসের চাহিদা বাড়ায় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশে অ্যানিম্যাল ফিডের বার্ষিক চাহিদা ১ কোটি টনে পৌঁছাবে

দেশে পোল্ট্রি ও মাংসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের হাত ধরে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে পশুখাদ্য বা অ্যানিম্যাল ফিডের বার্ষিক চাহিদা বেড়ে ১ কোটি (১০ মিলিয়ন) টনে পৌঁছাবে। বর্তমানে দেশে ফিডের চাহিদা রয়েছে ৭৫ লাখ (৭.৫ মিলিয়ন) টন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (BAU) এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০৩০ সালের মোট প্রাক্কলিত ফিড চাহিদার ৬৫ শতাংশ ব্যবহৃত হবে পোল্ট্রি খাতে, ২০ শতাংশ মৎস্য চাষে এবং বাকি ১৫ শতাংশ গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (FIAB) এবং ইউএস সোয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিল (USSEC) আয়োজিত “প্রোটিনের চাহিদা পূরণে ফিডের ভূমিকা” শীর্ষক এক সেমিনারে গবেষণাটির তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

আরো পড়ুন
তেলাপিয়া মাছের শীতকালীন রোগ ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক পরিচর্যা

বাণিজ্যিক মৎস্য চাষে তেলাপিয়া অন্যতম লাভজনক ও জনপ্রিয় মাছ। তবে শীতকালে তাপমাত্রা হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে পুকুরের পরিবেশ এবং মাছের Read more

স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তি: কম খরচে লাভজনক আনারকলি (Passion Fruit) চাষ পদ্ধতি ও যত্ন
বাংলাদেশে আনারকলি চাষ

বাংলাদেশের কৃষিতে সাম্প্রতিক সময়ে অপ্রচলিত ফল ও সবজি চাষে বিপ্লব ঘটেছে। এর মধ্যে অন্যতম একটি উচ্চমূল্যের ও লাভজনক নাম হলো Read more

প্রোটিন নিরাপত্তা ও ফিড কার্যকারিতা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল নিউট্রিশন বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান শিশির সেমিনারে ফিড কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর একটি নিবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, জাতীয় লক্ষ্য যদি প্রোটিন নিরাপত্তা অর্জন হয়, তবে ফিড শিল্পকে মূল্যায়ন করা উচিত তারা কতটা দক্ষতার সাথে ভোজ্য প্রোটিন উৎপাদন করতে পারছে তার ওপর ভিত্তি করে।

তিনি উল্লেখ করেন, “সবচেয়ে সস্তা ফিড ব্যবহার করলেই যে প্রাণীজ প্রোটিন উৎপাদনের খরচ সবচেয়ে কম হবে—এমনটি ভাবা ঠিক নয়।”

বর্তমানে বাংলাদেশের মৎস্য ও পোল্ট্রি ফিড শিল্প ধানের কুঁড়া (রাইস ব্র্যান), ভুট্টা, সোয়াবিন মিল, ফিশ মিল এবং অন্যান্য স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে পুষ্টিকর ফিড সরবরাহ করে আসছে, যা প্রাণীর বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতায় ভূমিকা রাখছে।

উৎপাদন খরচ ও সোয়াবিন ভ্যালু চেইন

সেমিনারে বক্তারা অ্যানিম্যাল ফিড খাতের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন:

  • উৎপাদন খরচের বড় অংশ: প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহ আলম খান জানান, পোল্ট্রি ও গবাদি পশু খাতে মোট উৎপাদন খরচের প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই ব্যয় হয় খাবারের পেছনে।

  • নিরাপদ প্রোটিনের মূল ভিত্তি: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, একটি সুস্থ ও পুষ্ট জাতি গঠনে প্রাণীজ প্রোটিন অপরিহার্য। আর এই নিরাপদ ও মানসম্পন্ন প্রোটিন উৎপাদনের মূল ভিত্তিই হলো মানসম্মত ফিড।

  • সোয়াবিন ভ্যালু চেইন ও কারিগরি সহায়তা: ইউএসএসইসি-র বাংলাদেশ মার্কেট লিড খবিবুর রহমান জানান, বাংলাদেশে সোয়াবিন প্রক্রিয়াজাতকরণের একটি সমন্বিত ভ্যালু চেইন রয়েছে। গবাদি পশুর স্বাস্থ্য উন্নত হলে মানুষের খাদ্যদ্রব্যের মানও উন্নত হবে। তিনি আরও জানান, দেশে গৃহীত প্রোটিনের প্রায় ৬০ শতাংশই আসে মাছ ও জলজ প্রাণী থেকে। ফলে এই সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে ইউএসএসইসি চাষিদের কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।

এক নজরে পশুখাদ্যের চাহিদার চিত্র:

বিবরণবর্তমান চিত্র২০৩০ সালের প্রাক্কলন
মোট বার্ষিক চাহিদা৭৫ লাখ টন১ কোটি টন (১০ মিলিয়ন)
পোল্ট্রি খাত–৬৫%
মৎস্য চাষ–২০%
গবাদি পশু (ক্যাটল)–১৫%

0 comments on “২০৩০ সালের মধ্যে পশুখাদ্যের বার্ষিক চাহিদা বেড়ে কোটি টনে পৌঁছাবে”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ