Monday, 16 March, 2026

মামলা প্রত্যাহার শর্তে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ১২ লাখ কৃষকের কৃষিঋণ মুক্তির টাকা দেবে সরকার


কৃষকদের মামলা প্রত্যাহারের শর্তে ঋণখেলাপি পরিশোধ করবে সরকার

যেসব কৃষকের ঋণ মুক্তি করা হয়েছে, তাদের ব্যাংকে পাওনা টাকা ও সুদ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এর শর্ত হিসেবে ওইসব কৃষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অর্থমন্ত্রণালয় থেকে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো এক নির্দেশনায় এই শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।

বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ (সুদসহ) মকুবের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ ও সুদ মকুবের ফলে সৃষ্ট দায় বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে সরকার পরিশোধ করবে। এ জন্য চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ১ হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

আরো পড়ুন
কম খরচে বেশি লাভ: পিরোজপুরের কৃষকদের ভাগ্য বদলাচ্ছে বরই চাষ

স্বল্প খরচ, অধিক মুনাফা ও বাজারে চাহিদা থাকায় ধান ও অন্যান্য ফসল ছেড়ে এখন বরই বা কুল চাষে ঝুঁকছেন পিরোজপুরের Read more

উত্তরাঞ্চলে অতি বর্ষণে তলিয়ে গেছে আলুক্ষেত, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ আলু চাষি

টানা বর্ষণে উত্তরাঞ্চলের বেশ কিছু জেলার রবিশস্য, বিশেষ করে আলুক্ষেতগুলো প্লাবিত হয়ে গেছে। এরই মধ্যে বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় Read more

এই অর্থের প্রায় ৫৪ শতাংশ পাবে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। বাকি অর্থ অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, সরকার মকুবকৃত অর্থের দায় নেওয়ার পর ব্যাংকগুলোকে অবিলম্বে কৃষকদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং তারা যাতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।

মামলা প্রত্যাহারের তথ্য প্রতি মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে জানাতে হবে ব্যাংকগুলোকে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, সুদ আরোপের পরবর্তী সময়ের জন্য অনাদায়ী সুদ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে মকুব করতে হবে।

প্রাসঙ্গিক তথ্য ক্রমান্বয়ে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিরীক্ষা সম্পন্ন করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চূড়ান্ত নিরীক্ষা বিবরণী সরকারের কাছে পাঠানো হলে, যাচাইকৃত অংশের টাকা সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে পরিশোধ করবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, পরিশোধের পর যদি দেখা যায় কোনো ব্যাংক প্রকৃত দায়ের চেয়ে বেশি টাকা সরকারের কাছ থেকে পেয়েছে, তাহলে সেই অতিরিক্ত টাকা সঙ্গে সঙ্গে সরকারের নির্ধারিত সুদসহ ফেরত দিতে হবে।

এই ঋণ মকুবের সুবিধা পাবেন প্রায় ১২ লাখ কৃষক।

গত ফেব্রুয়ারিতে প্রথম আনুষ্ঠানিক মন্ত্রিসভা বৈঠকে বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ (সুদসহ) মকুবের প্রস্তাব অনুমোদন করে সরকার।

ওই বৈঠক শেষে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ক্যাবিনেট সচিব নাছিমুল গণি জানান, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী শস্য, ফসল, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে নেওয়া ঋণ মকুবের আওতায় আসবে।

বিএনপির ইশতেহার অনুযায়ী, ক্ষুদ্রঋণ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি) নিবন্ধিত এনজিও থেকে নেওয়া ক্ষুদ্রঋণের কিস্তির এক বছরের টাকাও পরিশোধ করবে সরকার।

এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের কৃষিখাতের মেরুদণ্ড শক্তিশালী করা বলে জানান ক্যাবিনেট সচিব।

0 comments on “মামলা প্রত্যাহার শর্তে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ১২ লাখ কৃষকের কৃষিঋণ মুক্তির টাকা দেবে সরকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ