Tuesday, 07 July, 2026

লকডাউনে কৃষিকাজ করে সময় কাটান গ্রাজুয়েট কৃষক


গ্রাজুয়েট কৃষক

পরিত্যক্ত জায়গা কে এই লকডাউনের সময় খুব ভালো কাজে লাগানো যায়। এর প্রকৃষ্ট উদাহরন সৃষ্টি করেছেন গাজীপুরের নাজমুল হাসান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি অনুষদের শিক্ষার্থী হলেও শখের কৃষিতে কোন অংশে কম যান না সেটাই যেন বুঝিয়ে দিলেন। আর তার এ ধরনের চেষ্টায় পরিবারের চাহিদা তো মিটছেই, সাথে সাথে কিছু বিক্রয় করাও যাচ্ছে।

নাযমুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বি-ফার্ম শেষে এম-ফার্মএর পড়াশোনা করছেন। ফজলুল হক মুসলিম হলের এই ছাত্র করোনার প্রকোপ শুরু হলে বাড়িতে চলে আসেন। গৃহবন্দী হয়ে কাটাতে কাটাতে বিরক্ত হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পেতে অনেকটা শখের বশে শুরু করেন বাড়ির পাশের লাগোয়া পরিত্যক্ত জায়গায় কৃষি কাজ।

নাজমুলের ভাষ্যমতে, বাড়ি আসার  সপ্তাহখানেকের মধ্যই তিনি অস্থির হয়ে পড়েন। সাথে বই-পুস্তক না থাকায় পড়াশোনারও কোন সুযোগ নাই। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেবার অবস্থাও নেই। তাই বীজ সংগ্রহ করে শুরু করেন সবজি চাষ। তিনি বুঝতে পারছিলেন যে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। খাদ্যসংকটহলে কি হবে এসব ভাবতে ভাবতেই তার কৃষি কাজ এর কথা মনে হয়। তখন থেকেই শুরু করেন এই কাজ। তবে কৃষি কাজ করার জন্য চাই অভিজ্ঞতা। বিভিন্ন কৃষিবিষয়ক অ্যাপের মাধ্যমে ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে সেই মত করে চেষ্টা করেছেন। তার দাবি এতে সাধারন কৃষকদের থেকে তুলনায় দ্রুত ফলন পেয়েছেন।

আরো পড়ুন
কৃষিপণ্য রপ্তানিতে গাবতলীতে বসছে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস: কাল থেকেই চালু হচ্ছে কোয়ারেন্টাইন অফিস, কাঙ্ক্ষিত দাম পাবেন কৃষকেরা

বাংলাদেশের কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে সরাসরি ও ঝামেলাহীনভাবে রপ্তানির লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে রপ্তানি প্রক্রিয়ার সব ধরনের Read more

সন্দ্বীপের সবুজচরে আমন চাষের ঐতিহ্যবাহী ‘বাইন’ পদ্ধতি: কম খরচ ও পরিশ্রমে বাম্পার ফলনের আশা

চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৩ কিলোমিটার চওড়া ‘সবুজচর’। বর্তমানে এই চরের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন Read more

নাজমুল জানান যে কৃষি এখন উন্নত হয়েছে, যা সাধারণ গ্রামের কৃষকেরা বোঝেন না। অনুমানের ভিত্তিতে তারা কৃষিকাজ, পরিচর্যা করে থাকেন। যার কারনে সঠিক সময়ে সঠিক জিনিসের ব্যবহার থেকে যায় প্রায় সময়ই। ফলন সেই কারণেই আশানুরূপ হয় না।

বন্ধুদের কথা উল্লেখ করেন খুব মজা করে। তিনি বলেন তার বন্ধুরা তাকে নাম দিয়েছে ‘গ্রাজুয়েট কৃষক’। গ্রাজুয়েশন শেষ করে কৃষি কাজ করছেন বলেই এমন নাম দিয়েছে তারা। তবে তাতে তিনি রাগ করেন না, বরং তিনি বিষয়টা উপভোগ করেন। তার মতে সোশ্যাল মিডিয়া বা গল্পগুজবে সময় কাটানোর থেকে এমন কৃষি কাজ করেই শান্তি। এতে সময়ও ভালো কাটে তার।

One comment on “লকডাউনে কৃষিকাজ করে সময় কাটান গ্রাজুয়েট কৃষক

Md. Shariar Sarkar

লকডাউন এ কদু আপ 🙂 গুড, সময় কাটানোর একটা ভালো মাধ্যম উঠান কৃষি । আমিও শুরু করেছি 🙂

Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ