চট্টগ্রাম দেশের রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্য আনতে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অবস্থিত বেপজা ইকোনমিক জোনে ৩ কোটি ৪ লাখ ৭০ হাজার (৩০.৪৭ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার বিনিয়োগে স্থাপিত হচ্ছে একটি বিশাল ‘গ্রিনহাউস হাইড্রোপনিক্স টেন্ট’ নির্মাণ কারখানা। হংকং ও চীনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘গ্রিন পিওর হাউসওয়্যার (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড’-এর এই উদ্যোগ বাংলাদেশের শিল্প খাতে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশাল কর্মযজ্ঞ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা
বেপজা ইকোনমিক জোন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি অনুমোদন পায় এবং মার্চ মাসে চুক্তি স্বাক্ষরের পর কোম্পানিটিকে ২২ হাজার বর্গমিটার এলাকার ৬টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কারখানার নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের মার্চ মাসেই এটি উৎপাদনে যেতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কারখানাটিতে কেবল হাইড্রোপনিক্স টেন্টই নয়, বরং ইভিএ ক্যাবিনেট ম্যাট, কার্টন এবং পিই প্যাকেজিং ফিল্মও তৈরি করা হবে। বছরে প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ ইউনিট টেন্ট ও আনুষঙ্গিক পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
লক্ষ্য যখন বিশ্ববাজার
মাটি ছাড়া চাষাবাদের আধুনিক পদ্ধতি ‘হাইড্রোপনিক্স’ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উচ্চমূল্যের ফসল ফলানোর জন্য বিশেষায়িত এই গ্রিনহাউস টেন্টগুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। মিরসরাইয়ে উৎপাদিত এসব পণ্য মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, কানাডা এবং জাপানে রপ্তানি করা হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি ঝুড়িতে অপ্রচলিত ও উচ্চমূল্যের পণ্য যুক্ত করার ক্ষেত্রে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৩ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান
অর্থনৈতিক দিক থেকে এই প্রকল্পের বড় প্রাপ্তি হবে কর্মসংস্থান। কারখানাটি পুরোদমে চালু হলে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর ফলে মিরসরাই ও আশপাশের এলাকার স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি আসবে। পাশাপাশি পরিবহন, আবাসন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা খাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বেপজা ইকোনমিক জোনের প্রকল্প পরিচালক মো. এনামুল হক সংবাদমাধ্যমকে জানান:
“বিনিয়োগ আকর্ষণ, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং হাই-টেক শিল্প গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বমানের অবকাঠামো ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করছি।”
ভবিষ্যতের কৃষি ও বাংলাদেশ
জলবায়ু পরিবর্তন ও আবাদি জমির সংকটের এই যুগে স্মার্ট ফার্মিং বা হাইড্রোপনিক্স প্রযুক্তির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী কৃষি প্রযুক্তির এই ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করতে পারবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

