Thursday, 18 June, 2026

বাজারে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি: ভোক্তারা অসহায়


বাজারে পেঁয়াজ, আলু, ভোজ্যতেলসহ সবজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে ভোক্তারা বিপাকে পড়েছেন। কয়েক মাস ধরে এসব পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা। নতুন আলুর দাম ৯০-১০০ টাকা এবং পুরোনো আলু ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজির দামও অনেক বেশি, যার মধ্যে কিছু সবজি ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে।

সরকার পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করলেও তা কার্যকর করতে পারছে না। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাবেক সভাপতি গোলাম রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দাম মানছেন না এবং ক্রেতারা তাদের কাছে জিম্মি। তিনি আরও বলেন, তদারকি সংস্থাগুলোর দুর্বলতার কারণে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরো পড়ুন
সস্তা সিন্থেটিক ফাইবারের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চাপে বাংলাদেশের পাটপণ্য: বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী
সস্তা সিন্থেটিক ফাইবারের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে চাপে বাংলাদেশের পাটপণ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে স্বল্পমূল্যের সিন্থেটিক ফাইবারের বিশ্বব্যাপী সহজলভ্যতা এবং ক্রমবর্ধমান ব্যবহার বাংলাদেশের পাটপণ্যের জন্য একটি বড় সংকট সৃষ্টি করেছে। এটি Read more

ক্ষতিকর জাল উৎপাদন বন্ধের কঠোর নির্দেশ মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর: জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থান ও বিশেষ কার্ডের ঘোষণা
ক্ষতিকর জাল উৎপাদন বন্ধের কঠোর নির্দেশ মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর

ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারী সব ধরনের ক্ষতিকর জাল উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও Read more

সূত্র জানায়, ভারত থেকে আমদানি করা আলুর দাম ২৫-৩০ টাকার মধ্যে হওয়ার কথা থাকলেও তা খুচরা পর্যায়ে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এর জন্য আমদানিকারক ও ঢাকার শ্যামবাজারের আড়তদার সিন্ডিকেটকে দায়ী করা হচ্ছে।

খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৪-৫ টাকা এবং পাম তেলের দাম ৩-৪ টাকা কমেছে। তবে বোতলজাত তেলের সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় খুচরা পর্যায়ে বিক্রি কম হচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দাবি, বাজার তদারকিতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এবার কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যেমন জরিমানার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া।

বাজারে আসা ক্রেতারা, বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মানুষ, এই মূল্যবৃদ্ধিতে দিশেহারা। মো. আল আমিন নামে এক ক্রেতা বলেন, “বাজারে এলে হাহাকার লাগে। সবকিছুর দাম এত বেশি যে সংসার চালানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।”

নিত্যপণ্যের বাজারে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। কার্যকর তদারকি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না।

0 comments on “বাজারে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি: ভোক্তারা অসহায়

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ