Thursday, 10 September, 2026

টবে ডাটা শাক চাষ


ডাটা (Amaranth) চাষ রবি (শীতকালে) ও খরিফ (গ্রীষ্মকালে) উভয় মৌসুমে শাক-সবজি হিসেবে করা যায়। টবে ডাটা শাক চাষ করলে জৈব পদ্ধতিতে শাক পাওয়া যায়।

ডাটায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-এ, বি, সি, ডি এবং ক্যালসিয়াম ও লৌহ বিদ্যমান। ডাটার কাণ্ডের চেয়ে পাতা বেশি পুষ্টিকর। খুব কম সবজিতে এত পরিমাণে বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন ও খনিজ লবণ থাকে।

বপন সময়ঃ খরিফ মৌসুম (মার্চ-এপ্রিল) ও রবি মৌসুম (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর)।

আরো পড়ুন
পেঁপের মোজাইক ভাইরাস এবং পাতা কোঁকড়ানো রোগ দমন বিস্তারিত
পেঁপের মোজাইক ভাইরাস (Mosaic Virus) এবং পাতা কোঁকড়ানো (Leaf Curl Virus) রোগ

পেঁপের মোজাইক ভাইরাস (Mosaic Virus) এবং পাতা কোঁকড়ানো (Leaf Curl Virus) রোগ দুটি পেঁপে চাষের সবচেয়ে বড় শত্রু। সরাসরি কোনো Read more

বাংলাদেশ থেকে ১০ হাজার কৃষক ও মৎস্যজীবী নেবে ওমান
ওমানে যাবে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী। ৫ হাজার কৃষক ও ৫ হাজার মৎস্যজীবী নিয়োগে চুক্তি স্বাক্ষর। ভিসা চালুতে কূটনৈতিক চেষ্টা জোরদার

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য উন্মোচিত হচ্ছে নতুন এক সম্ভাবনার দ্বার। বাংলাদেশ থেকে শিগগিরই ১০ হাজার দক্ষ ও অভিজ্ঞ Read more

ডাটা শাকের জন্য টবের মাটি তৈরি

টবে ডাটা শাক চাষ পদ্ধতি তে মাটি তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ছাদ বাগানের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বেলে-দোঁআশ মাটি। মাটির সংগে মিশাতে হবে পচা গোবর সার, পাতা পচা সার, কাঠ পোড়ানো ছাই, সরিষার খৈল, নিম খৈল, টিএসপি,পটাশ, পাথর চুন

কোন সার কি পরিমানে মিশাতে হবে

তিন ভাগ মাটির সংগে একভাগ পচা গোবর। হিসেবের সুবিধার্থে তিন বস্তা মাটির হিসাব তুলে ধরলাম। এই রেশিওতে যার যতটুকু প্রয়োজন মাটি প্রস্তুত করে নিবেন ।

তিন বস্তা মাটির সংগে গোবর সার এক বস্তা , পাতা পচা সার (যদি থাকে) অর্ধেক বস্তা, কাঠ পোড়ানো ছাই (যদি থাকে) ১কেজি, সরিষার খৈল ২৫০গ্রাম, নিম খৈল ৫০ গ্রাম টিএসপি ১০০ গ্রাম , মিউরেট অব পটাশ ১০০ গ্রাম এবং পাথর চুন ৫০গ্রাম ।

টবের আকার:

টবে ডাটা শাক চাষ করলে টবের আকার সঠিক হওয়া প্রয়োজন। কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ কেজি মাটি ধরে এমন টব, ড্রাম বা সিমেন্টের বস্তায় আপনি শাকের চারা লাগাতে পারেন। শাকের চারা মূলত বীজ থেকে তৈরি ।

ডাটা শাক

ডাটা শাকে কি সার প্রয়োগ করবেন ?

রোপণের সময় প্রয়োগ কৃত জৈব সার এর বাইরে ও নিয়মিত জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে অপরদিকে রাসায়নিক সার প্রয়োগ ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয় ।

এছাড়া গাছের অবস্থা দেখে মাঝে মাঝে জৈব সার গাছের গোড়ার ৬” ইঞ্চি দূরে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। টবের গাছের জন্য সবচেয়ে ভালো হয় তরল সার ব্যবহার করলে।

তরল সার তৈরির জন্য ২০০ গ্ৰাম সরিষার খৈল অথবা ৫০০ গ্ৰাম পরিমাণ শুকনো গোবর ২ লিটার পানিতে মিশিয়ে দুই দিন রেখে দিতে হবে। এরপর ঐ তৈরি করা তরল সার টবে প্রয়োগ করুন।

প্রয়োগের সময় গাছের গোড়া থেকে অন্তত ৬-৮” ইঞ্চি দূরে তরল সার টি প্রয়োজন মত ঢেলে দিন । এই তরল সার প্রতি মাসে দুইবার প্রয়োগ করলে ফলন বেশ ভালো হবে।

রোগবালাই দমন:

ডাটা শাক গাছের রোগ বালাই দমন করতে বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। সাধারনত প্রায় সব ধরনের গাছে রোগ বালাই হয়ে থাকে। এখানে ডাটা শাক গাছের রোগ বালাই দমনের প্রাকৃতিক পদ্ধতি আলোচনা করা হলো।

জৈব কীটনাশক প্রয়োগ:

ডাটা শাক গাছের রোগ বালাই দমন করতে জৈব কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন। জৈব কীটনাশক গুলো মানুষের জন্য একেবারেই ক্ষতিকর নয়।

এই ধরনের কীটনাশক নিম পাতা সেদ্ধ করে বা গাঁদা ফুলের পাতার রস থেকে তৈরি করা যায়। এছাড়া নিমের তেল স্প্রে করেও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কীট পতঙ্গ দমন করা সম্ভব।

বর্তমানে বাজারে নিমের তেল কিনতে পাওয়া যায়। ডাটা শাক গাছের রোগবালাই দমন।

ছত্রাক দমনে করনীয়:

ডাটা শাক গাছে মাঝে মধ্যেই গোড়ায় পচন জাতীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে । সেক্ষেত্রে গাছের গোড়ায় শুকনো ছাই প্রয়োগ করতে হবে। ছাই ডাটা শাক গাছকে ছত্রাকের আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে।

এগুলো ছাড়াও অধিকাংশ রোগবালাই থেকে আপনার টবের গাছটিকে বাঁচাতে চাইলে কিছু পরিমাণ শুকনো নিমপাতা গাছের গোড়ায় দিয়ে রাখুন এটি অধিকাংশ পোকা মাকড় কে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।

ডাটা সংগ্রহ ও পরবর্তী করণীয়:

ভালো স্বাদ পাওয়ার জন্য পাতা নরম বা মোলায়েম অবস্থায় শাক সংগ্রহ করতে হবে। কীটনাশক প্রয়োগ করে থাকলে ৫-৭ দিন পর শাক সংগ্রহ করতে হবে।

0 comments on “টবে ডাটা শাক চাষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ