Wednesday, 26 August, 2026

খুলছে সম্ভাবনার দুয়ার: ভেনামি চিংড়ি চাষের স্থগিতাদেশ দ্রুত প্রত্যাহার করছে সরকার


বাংলাদেশের মৎস্য খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে ভেনামি চিংড়ি চাষের স্থগিতাদেশ তুলে নিচ্ছে সরকার। রপ্তানি আয় ৪ গুণ বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে দ্রুত শুরু হচ্ছে পোনা আমদানি।

দেশের মৎস্য খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে ভেনামি চিংড়ি চাষ ও পোনা আমদানির ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ খুব দ্রুত তুলে নিচ্ছে সরকার। বিশ্ববাজারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ প্রশস্ত করতে বর্তমান সরকার এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সিদ্ধান্তহীনতার অবসান ও নতুন সম্ভাবনা

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ভেনামি চিংড়িকে আমদানিনির্ভর প্রজাতি উল্লেখ করে এর চাষ ও পোনা আমদানি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল। তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় বর্তমানে এই প্রজাতির বাণিজ্যিক প্রসারের লক্ষ্যে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা সভা শেষে দ্রুতই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আরো পড়ুন
অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সফল মৎস্য খাত, এবার নজর বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাড়ানোয়: জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনীতে মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ বর্তমানে মাছের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করেছে উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, Read more

দেশের অব্যবহৃত জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে বন্টন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও কর্মসংস্থানমুখী করতে সরকারি জলমহাল, অব্যবহৃত পুকুর, হাওর-বাঁওড় ও জলাশয় সংস্কার করে স্থানীয় বেকার Read more

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) জিয়া হায়দার চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন:

“গত ১০ এপ্রিল এ বিষয়ে একটি নীতি নির্ধারণী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এ বিষয়ে আন্তরিক। আশা করছি দ্রুতই রেজল্যুশন সম্পন্ন হবে।”

কেন ভেনামি চিংড়ি গুরুত্বপূর্ণ?

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভেনামি চিংড়ি চাষের বেশ কিছু বৈপ্লবিক দিক রয়েছে:

  • অধিক ঘনত্বে চাষ: সাধারণ চিংড়ির তুলনায় অনেক বেশি ঘনত্বে এটি চাষ করা সম্ভব।

  • দ্রুত বর্ধনশীল: মাত্র ৮০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই এই চিংড়ি বাজারজাত করার উপযোগী হয়।

  • সাশ্রয়ী উৎপাদন: আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করায় অন্যান্য প্রজাতির তুলনায় এর উৎপাদন খরচ অনেক কম।

বিশ্ববাজার বনাম বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক বাজারে মোট উৎপাদিত চিংড়ির প্রায় ৮০ শতাংশই ভেনামি। ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও ইকুয়েডর এই প্রজাতির চিংড়ি রপ্তানি করে তাদের রিজার্ভ শক্তিশালী করছে। বিপরীতে বাংলাদেশ শুধু বাগদা ও গলদার ওপর নির্ভর করায় বিশ্ববাজারের বড় একটি অংশ হারাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে:

বাংলাদেশের ২.৫ লাখ হেক্টর চিংড়ি ঘেরের মাত্র ৩০ শতাংশেও যদি ভেনামি চাষ করা যায়, তবে বছরে রপ্তানি আয় ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এটি বর্তমান আয়ের চেয়ে অন্তত চারগুণ বেশি।

অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান ও বর্তমান স্থিতি

ইতিমধ্যেই সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, খুলনা, ফেনী ও কক্সবাজার জেলায় মোট ৩৩টি প্রতিষ্ঠানকে ভেনামি চাষের এবং ৭টি হ্যাচারিকে পোনা উৎপাদনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে স্থগিতাদেশের কারণে বর্তমানে তাদের ব্রুড চিংড়ি ও খাদ্য আমদানি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। স্থগিতাদেশ উঠে গেলে এই প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণোদ্যমে কাজ শুরু করতে পারবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন:

“পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত চিংড়ি রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। আমরাও মানসম্মত চিংড়ি উৎপাদন বৃদ্ধি করে বিশ্ববাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছি।”

এক নজরে ভেনামি চিংড়ির সম্ভাবনা:

বিষয়ের নামতথ্য ও প্রভাব
বিশ্ববাজারের অংশপ্রায় ৮০% দখল করে আছে ভেনামি।
উৎপাদনকাল৮০-১২০ দিন।
রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রাসম্ভাব্য ২ বিলিয়ন ডলার (বছরে)।
চাহিদা বৃদ্ধিবিশ্ববাজারে বছরে গড় প্রবৃদ্ধি ৭%।

0 comments on “খুলছে সম্ভাবনার দুয়ার: ভেনামি চিংড়ি চাষের স্থগিতাদেশ দ্রুত প্রত্যাহার করছে সরকার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ