Tuesday, 25 August, 2026

আয়ের উৎস শাপলা ফুল, রয়েছে নানা গুণ


শাপলা ফুল, জাতীয় ফুল। দেখতে যেমন সুন্দর, তেমনি তরকারি হিসেবে খেতেও সুস্বাদু। এর দাম কম হওয়ায় নিম্নবিত্তদের কাছে এর অনেক চাহিদা । নিম্নবিত্তদের আয়ের উৎস শাপলা ফুল, রয়েছে অনেক সম্ভাবনা।

গ্রামাঞ্চলের নিম্নবিত্তরা বর্ষা মৌসুমে আগে  শাপলা তুলে ভাজি ও ভর্তা করে খেত। এখন যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির কারণে  শহরের বাজারেও শাপলা সহজলভ্য । সুস্বাদু হবার কারণে শহরেও তাই চাহিদা বাড়ছে এর।

বর্ষা মৌসুমে মুন্সিগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলার হাজারো পরিবারের জীবিকার প্রধান মাধ্যম এই শাপলা, তা খাবার হিসেবে যেমনই হোক । এসব পরিবার বিল থেকে শাপলা তুলে সংসারের নিত্য খরচ মিটিয়ে কিছু সঞ্চয়ও করে। এসব পরিবার শাপলা বিক্রি করেই চলে বছরে দুই থেকে তিন মাস।

আরো পড়ুন
অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সফল মৎস্য খাত, এবার নজর বিশ্ববাজারে রপ্তানি বাড়ানোয়: জাতীয় মৎস্য পক্ষের সমাপনীতে মৎস্য প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ বর্তমানে মাছের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করেছে উল্লেখ করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, Read more

দেশের অব্যবহৃত জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে বন্টন করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের মৎস্য খাতকে আরও সমৃদ্ধ, আধুনিক ও কর্মসংস্থানমুখী করতে সরকারি জলমহাল, অব্যবহৃত পুকুর, হাওর-বাঁওড় ও জলাশয় সংস্কার করে স্থানীয় বেকার Read more

শাপলা তোলার কাজ করে করেন আয়

জেলার সিরাজদিখান, শ্রীনগর (আড়িয়াল বিল) হাসারা, টঙ্গিবাড়ী ও সদরের চরাঞ্চলের কৃষক ও দিনমজুররা এ কাজ করে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত খাল-বিল ও বিস্তীর্ণ জমিতে জন্মানো শাপলা তুলে নৌকায় করে নিয়ে আসে তারা। এরপর বিক্রি করেন বিভিন্ন বাজারে নিয়ে।

সাধারণত জ্যৈষ্ঠ থেকে শুরু করে কার্তিক মাস পর্যন্ত শাপলা ফুল পাওয়া যায়। জেলার প্রতিটি উপজেলায় বহু বছর ধরে  এ পেশাটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এখন অনেকেই জীবিকা নির্বাহ করছেন শাপলা বিক্রি করে ।

শ্রীনগর উপজেলার আড়িয়াল বিল রয়েছে । দেশের মধ্যাঞ্চলের সবচেয়ে বড় বিলটি বর্ষা মৌসুমে পানিতে ডুবে থাকে । এ বিলে শাপলা কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহ করে কয়েক শ পরিবার ।

মূলত কয়েকটি উপজেলাজুড়ে রয়েছে আড়িয়াল বিল ।

বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে জানা যায়, খুব ভোর বেলা থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত বিলে শাপলা তোলা হয়। প্রায় ৬০-৭০টি শাপলায় করা একটি আঁটি পাইকাররা কেনেন ৫০-৬০ টাকায়।

২০টি শাপলার আঁটি স্থানীয় লোকজন কেনেন ১২ টাকায়। দৈনিক একজন মানুষ কমপক্ষে ৫০ আঁটি শাপলা তুলতে পারেন।

প্রতিদিন শাপলা সংগ্রহ করে ৮-১০টি পিকআপ ভ্যান শ্রীনগর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে যায়।

উপজেলার সদরে ডাকবাংলাে মার্কেটের সামনে শাপলা বিক্রেতা জানান, অন্য সময় তিনি দিনমজুরের কাজ করলেও বর্ষায় শাপলা তুলছেন প্রায় ২০ বছর ধরে। কামারখোলা বিল থেকে শাপলা তুলে প্রতিদিন ডাকবাংলাে মার্কেটের সামনে বিক্রি করছেন তিনি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হিসেবে কর্মরত খুরশীদ আলম। তিনি জানান, প্রাকৃতিকভাবেই শাপলা ফুল বর্ষায় ফোটে। যেহেতু বর্ষায় জেলার অধিকাংশ জমিতেই পানি থাকার দরুন প্রচুর শাপলা হয়।

0 comments on “আয়ের উৎস শাপলা ফুল, রয়েছে নানা গুণ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ