Wednesday, 18 March, 2026

আইনে নিষিদ্ধ কিন্তু গোপনে বাংলাদেশে বিষধর সাপের খামার


Poisonous Snake

বাংলাদেশে সাপ লালন পালন বা খামার করা অবৈধ ও আইনত দণ্ডনীয় হলেও বিভিন্ন জেলায় ছোট বড় আকারে সাপের খামার গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন বন্যপ্রাণী অনেক গবেষক।

বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী বলতে বোঝানো হয় যেসব প্রাণী প্রকৃতি থেকে খাবার সংগ্রহ করে শিকার করে খায়। যাদের অন্যের উচ্ছিষ্ট বা তৈরি করা খাবারের ওপর নির্ভর করতে হয় না।

বন্যপ্রাণী গবেষকরা জানান বাংলাদেশের নাটোর, রাজশাহী, গাজীপুর, পটুয়াখালী ও বরিশালে একাধিক সাপের খামার গড়ে তোলা হলেও এগুলো তুলে নেয়ার ব্যাপারে প্রশাসনকে কোন ভূমিকা নিতে দেখা যায়নি।

আরো পড়ুন
জামালপুরে ৬ হাজার কৃষকের জন্য আউশ ধানের প্রণোদনা বরাদ্দ
কৃষি অধিদপ্তর আউশ ধান চাষের জন্য প্রণোদনা

কৃষি অধিদপ্তর একটি কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির অধীনে জেলার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে আউশ ধান চাষের জন্য প্রণোদনা বিতরণ করবে। Read more

মামলা প্রত্যাহার শর্তে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ১২ লাখ কৃষকের কৃষিঋণ মুক্তির টাকা দেবে সরকার
কৃষকদের মামলা প্রত্যাহারের শর্তে ঋণখেলাপি পরিশোধ করবে সরকার

যেসব কৃষকের ঋণ মুক্তি করা হয়েছে, তাদের ব্যাংকে পাওনা টাকা ও সুদ পরিশোধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এর শর্ত হিসেবে Read more

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪৯টি বিষধর সাপ, ৩৬টি ডিম এবং সাপ লালন পালনের কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করে ভ্রাম্যমান আদালত।

অবৈধভাবে সাপের খামার গড়ে তোলার অপরাধে খামার মালিক শাহাদাত হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা সেইসঙ্গে খামারটি সরিয়ে নিতে সাত দিনের সময় বেঁধে দেয়া হয়।

বুধবার বিকেলে উপজেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে বৈদ্যবেলঘরিয়া চৌধুরী পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, একটি আখের ঘের ও ঝোপঝাড়ের মাঝখানে নিচু ভূমিতে টিনশেড দেয়া আধপাকা বাড়িতে সাপের খামার গড়ে তোলা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন ভেতরে দেখতে পান একটি শুকনো চৌবাচ্চার মতো স্থানে ছোট বড় অসংখ্য বিষধর সাপ ছেড়ে রাখা হয়েছে।

snakes
snakes

পরে ভ্রাম্যমান আদালতের সঙ্গে থাকা সাপ বিশেষজ্ঞ, পরীক্ষা করে দেখেন যে সেখানে পদ্মগোখরো ও গোখরো, এই দুই প্রজাতির বিষধর সাপ রয়েছে।

কোন ধরণের প্রশিক্ষণ, পূর্ব অভিজ্ঞতা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এতোগুলো সাপ পালনের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গত ছয় মাস ধরে অবৈধভাবে ওই খামার পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে।

রাজশাহী বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ  ৪৯টি সাপ উদ্ধার করে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেয়ার কথা জানায়।

বাংলাদেশ টক্সিকোলজি সোসাইটির হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে ৮০টি প্রজাতির সাপ রয়েছে।

সাপ ও সাপের বিষ নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংস্থা বাংলাদেশ টক্সিকোলজি সোসাইটির প্রধান অধ্যাপক এমএ ফায়েজ বলেছেন, দেশে যেসব সাপ রয়েছে, তার মধ্যে সাত থেকে আট প্রজাতির অত্যন্ত বিষধর। এদের কামড়ে বেশি মানুষ মারা যায়।

Poisonous Snake
Poisonous Snake

বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ অনুযায়ী, সাপ সংগ্রহ ও মেরে ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এই আইনের ৬ ধারা অনুযায়ী, বন্যপ্রাণী সংগ্রহ বা শিকার করা হলে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

এবং একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটাইলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান আছে।

(বিবিসি অবলম্বনে)

0 comments on “আইনে নিষিদ্ধ কিন্তু গোপনে বাংলাদেশে বিষধর সাপের খামার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ