পঙ্গপাল এক ধরনের ইনসেক্ট। এরা একক ভাবে চলাফেরা করে। তবে ভাল পরিবেশ পেলে দলবদ্ধ হয়ে ধ্বংসাত্বক হয়ে উঠে।এদের খাবার ফসলের মধ্যের অংশ। ধান, গম, ভুট্রা, এবং অন্যন্য ফসল এদের খাদ্য। ঘাস ফড়িংয়ের সমগোত্রীয় প্রাণী ই পঙ্গপাল।
পঙ্গপাল নিয়ে আপনার দুশ্চিন্তা হওয়াটা স্বাভাবিক, কারণ এই পতঙ্গটি যখন ঝাঁক বেঁধে আসে, তখন তারা আক্ষরিক অর্থেই “সবুজ যা পায়, তা-ই সাবার করে দেয়”। তবে আশার কথা হলো, বাংলাদেশের জলবায়ু (অতিরিক্ত আর্দ্রতা ও বৃষ্টি) পঙ্গপালের বংশবিস্তারের জন্য খুব একটা সহায়ক নয়।
পঙ্গপাল আসলে কী খায় এবং কেন তারা এত ভয়ংকর, তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো:
পঙ্গপাল যা যা খায়
পঙ্গপাল মূলত তৃণভোজী এবং তারা খাবারের ব্যাপারে মোটেও বাছবিচার করে না। একটি পঙ্গপালের ঝাঁক প্রতিদিন তাদের ওজনের সমান খাবার খেতে পারে। তাদের খাদ্য তালিকায় থাকে:
- ফসলি গাছ: ধান, গম, ভুট্টা, বার্লি এবং বাজরা তাদের সবচেয়ে প্রিয়।
- গাছের পাতা ও ডাল: যেকোনো সবুজ গাছের পাতা, কচি ডাল এমনকি গাছের ছাল (Bark) পর্যন্ত তারা খেয়ে ফেলতে পারে।
- সবজি ও ফল: সবজি বাগান বা ফলের বাগানের আম, লিচু, লেবুসহ প্রায় সব ধরনের ফল ও সবজি তারা সাবাড় করে দেয়।
- তৃণভূমি: গবাদি পশুর চারণভূমির ঘাসও তারা বাকি রাখে না।
কেন এরা এত ক্ষতিকর?
১. বিশাল ক্ষুধা: একটি ছোট ঝাঁক (প্রায় ১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের) একদিনে যা খাবার খায়, তা দিয়ে প্রায় ৩৫,০০০ মানুষের একদিনের খাবার জোগান দেওয়া সম্ভব। ২. গতিবেগ: এরা বাতাসের সাহায্যে দিনে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে পারে। ৩. সবকিছু সাবাড়: এরা শুধু পাতা খায় না, গাছের ফুল, ফল এবং বীজও খেয়ে ফেলে, যার ফলে গাছটি পুনরায় জন্মানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
বাংলাদেশে কি আসার সম্ভাবনা আছে?
সাধারণত মরু-পঙ্গপাল (Desert Locust) আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য এবং পাকিস্তান-ভারত হয়ে আসে। বাংলাদেশ অনেক বেশি আর্দ্র এবং বৃষ্টিপ্রবণ দেশ হওয়ায় মরু-পঙ্গপাল এখানে এসে বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। ২০২০ সালের দিকেও এমন আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, কিন্তু আমাদের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বড় কোনো ক্ষতি হয়নি।
একটি মজার কিন্তু ভয়ংকর তথ্য: পঙ্গপাল যখন মারাত্মক ক্ষুধার্ত থাকে এবং সবুজ গাছপালা খুঁজে পায় না, তখন তারা নিজেদের প্রজাতির দুর্বল সদস্যদেরও আক্রমণ করে বসতে পারে!

