চিংড়ি চাষে পচা কাদা বা তলার বর্জ্য জমার প্রধান উৎস এবং এটি দমনে ঘের শুকানোর সঠিক নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:
১. চিংড়ি চাষে পচা কাদার উৎস
ঘেরের তলায় কাদা পচে বিষাক্ত হওয়ার পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করে:
অতিরিক্ত খাদ্য: চিংড়িকে দেওয়া খাবারের একটি বড় অংশ (প্রায় ১৫-২০%) অবিক্রিত থেকে যায়, যা তলায় জমে পচে যায়।
জৈব বর্জ্য: চিংড়ির মল এবং মরে যাওয়া প্লাঙ্কটন (শৈবাল) তলায় স্তূপাকার হয়ে জমা হয়।
রাসায়নিক ও সার: অতিরিক্ত ইউরিয়া, টিএসপি বা কাঁচা গোবর ব্যবহারের ফলে তলায় দ্রুত জৈব পদার্থের স্তর তৈরি হয়।
এই পচা কাদা থেকে হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S) নামক বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয়, যা চিংড়ির ফুলকা নষ্ট করে দেয় এবং মড়ক সৃষ্টি করে।
২. চিংড়ি ঘেরের তলা কতদিন রোদে শুকাতে হবে?
ঘেরের তলা শুকানো বা ‘Sun Drying’ মাটি শোধনের সবচেয়ে কার্যকর ও প্রাকৃতিক পদ্ধতি। এটি কতদিন করবেন তা নির্ভর করে মাটির প্রকারভেদের ওপর:
সাধারণ সময়সীমা: ঘেরের তলা অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন কড়া রোদে শুকানো উচিত।
লক্ষ্যণীয় বিষয়: ততক্ষণ পর্যন্ত শুকাতে হবে যতক্ষণ না ঘেরের তলার মাটিতে ফাটল ধরে।
ফাটলের গভীরতা: মাটি অন্তত ২-৪ ইঞ্চি গভীর পর্যন্ত ফাটলে বুঝতে হবে ভেতরের বিষাক্ত গ্যাসগুলো বেরিয়ে গেছে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটোরিয়া মারা গেছে।
বিশেষ নোট: যদি মাটি খুব বেশি বালিযুক্ত হয়, তবে ৭-১০ দিন শুকানোই যথেষ্ট। কিন্তু কাদা মাটি হলে কমপক্ষে ১৫ দিন শুকানো নিরাপদ।
৩. ঘের শুকানোর পর করণীয় (ধাপসমূহ)
শুধু শুকালেই হবে না, পরবর্তী চাষের জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করা জরুরি:
| ধাপ | করণীয় | উপকারিতা |
| ১. কাদা অপসারণ | উপরের কালো পচা কাদা চেঁছে ফেলে দেওয়া। | বিষাক্ত গ্যাসের উৎস নির্মূল হয়। |
| ২. লাঙল দেওয়া | রোদ লাগানোর পর হালকা লাঙল দিয়ে মাটি উল্টে দেওয়া। | মাটির নিচের স্তরে অক্সিজেন পৌঁছায়। |
| ৩. চুন প্রয়োগ | শতাংশ প্রতি ১-২ কেজি চুন (পাথর চুন) ছিটিয়ে দেওয়া। | মাটির pH নিয়ন্ত্রণ ও জীবাণু ধ্বংস হয়। |
| ৪. ব্লিচিং (প্রয়োজনে) | যদি আগের বছর ভাইরাস থাকে, তবে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার। | ভাইরাসের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়। |
ঘের শুকানোর সময় যদি মাটির রঙ খুব বেশি কালো বা দুর্গন্ধযুক্ত মনে হয়, তবে চুন প্রয়োগের পরিমাণ কিছুটা বাড়িয়ে দিন।

