Monday, 09 March, 2026

রংপুর অঞ্চলের চরাঞ্চলে বাম্পার ফলন ও ঈদের আমেজ


রংপুর চরে বাম্পার ফলন কৃষকের খুশি

রংপুর বিভাগের নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলে এ বছর ফসলের বাম্পার ফলন ও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় সেখানে আগেই উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে চরাঞ্চলের বাসিন্দারা পরিবারের জন্য পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।

রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার নদীসংলগ্ন বালুকাময় চরাঞ্চলের কৃষকরা একদিকে যেমন মাঠ থেকে ফসল সংগ্রহ করছেন, তেমনি অন্যদিকে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। চলতি মৌসুমে বিভিন্ন ফসলের বাম্পার ফলন, ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি, বাড়তি আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা চরের মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফলে নিজস্ব সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তারা ঈদের কেনাকাটা সম্পন্ন করতে পারছেন।

উল্লেখ্য, এক সময় চরাঞ্চলের জনগোষ্ঠী চরম দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, কুসংস্কার, অপুষ্টি ও বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এ চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। কৃষিকাজ, পশুপালন ও অন্যান্য উপার্জনমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থেকে তারা এখন অনেকটাই স্বাবলম্বী।

আরো পড়ুন
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে বাংলাদেশের সবজি রপ্তানি খাত চরম চাপের মুখে
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে বাংলাদেশের সবজি রপ্তানি খাত চরম চাপের মুখে

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের কৃষিপণ্য, বিশেষ করে সবজি রপ্তানি খাতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ওই Read more

নতুন সুগন্ধি ও ব্লাস্ট প্রতিরোধী আমন জাতের উদ্ভাবন
নতুন সুগন্ধি ও ব্লাস্ট প্রতিরোধী আমন জাতের উদ্ভাবন

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) গবেষণায় নতুন দুইটি আমন ধানের জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। এই জাতগুলো হলো ‘বিনা ধান Read more

রংপুরভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘নর্থ বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’-এর চেয়ারম্যান ড. সৈয়দ শামসুজ্জামান বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, প্রতিকূল ভৌগোলিক ও জলবায়ু পরিস্থিতির মধ্যেও চরবাসীর জীবনমান ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে। তিনি বলেন, “সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, আয়বর্ধক কার্যক্রম ও প্রায় ৮২ হাজার হেক্টর চর জমিতে ফসল চাষের ফলে এখানকার মানুষের অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত হচ্ছে। এরই প্রতিফলন ঘটেছে ঈদের কেনাকাটাতেও।”

স্থানীয় কৃষকরাও এ ধারা সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার চর তালুক শাহবাজ গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম জানান, তিস্তা নদীর শুকনো তলদেশে চীনাবাদাম, কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন ও শাকসবজির বাম্পার ফলন পেয়েছেন। ভালো দাম পাওয়ায় সন্তানদের জন্য ঈদের পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পেরেছেন বলে তিনি জানান।

গঙ্গাচড়া উপজেলার চর পূর্ব মহীপুর গ্রামের শাহিনুর ইসলাম ও তার স্ত্রী ফ্যান্সি বেগম জানান, আড়াই একর জমিতে খিরা, আলু ও কাঁচা মরিচ চাষ করে ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ফসল বিক্রি করেছেন। আগামী মে মাস নাগাদ সব ফসল বিক্রি শেষে খরচ বাদে আড়াই লাখ টাকা মুনাফা পাওয়ার আশা করছেন। তারা ইতোমধ্যে সন্তানদের জন্য ঈদের কেনাকাটা সম্পন্ন করেছেন।

একই উপজেলার পশ্চিম মহিপুর গ্রামের আব্দুল জলিল, মহসিন আলী, নুর ইসলামসহ স্থানীয় কৃষকরা জানান, ফসল বিক্রির অর্থ দিয়ে পরিবারের সদস্যদের জন্য ঈদের পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার পরিকল্পনা করছেন।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) বুড়িরহাট উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্রের উপ-পরিচালক ড. মো. আবু সায়েম বলেন, “প্রতি বছর চরাঞ্চলের কৃষকেরা বিভিন্ন ফসল চাষ করে লাভবান হচ্ছেন। বর্তমানে তারা একই সঙ্গে ফসল সংগ্রহ ও ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত। চরাঞ্চলে ইতোমধ্যে ঈদের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে।”

0 comments on “রংপুর অঞ্চলের চরাঞ্চলে বাম্পার ফলন ও ঈদের আমেজ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ