
দেশের কৃষি খাতকে আধুনিকায়ন ও বেগবান করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। একইসঙ্গে কৃষকদের সঠিক ডাটাবেজ তৈরিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ‘কৃষি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত কৃষি খাতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে তাঁর দেশের গভীর আগ্রহের কথা জানান।
বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু ও অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। বাংলাদেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে আমরা মার্কিন কৃষি প্রযুক্তি ও সহযোগিতাকে সবসময় স্বাগত জানাই।” রাষ্ট্রদূত নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় মন্ত্রীকে অভিবাদন জানান এবং দুই দেশের কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। বৈঠকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্মার্ট কৃষি কার্ড ও সেক্টর উন্নয়ন এদিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি’ বিষয়ক এক কর্মশালায় কৃষিমন্ত্রী দেশের কৃষি খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “কৃষির উন্নয়নই দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের চাবিকাঠি। দেশের প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল।”
মন্ত্রী আরও জানান:
সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার: বর্তমানে কৃষকদের সঠিক ও সমন্বিত তথ্যের অভাব রয়েছে। এই সংকট দূর করতে খুব দ্রুত ‘কৃষি কার্ড’ চালু করা হবে।
প্রকৃত সুবিধাভোগী চিহ্নিতকরণ: এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের প্রকৃত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, যা সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করবে।
অগ্রাধিকার: সাম্প্রতিক নির্বাচনে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। মাঠ ও খামারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার কারণেই কৃষির বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সারসংক্ষেপ সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো—১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল কৃষি কার্ড প্রবর্তন—তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে এবং কৃষি বিপ্লব সাধনে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

