Wednesday, 14 October, 2026

সারের প্রতি বস্তায় ডিলার কমিশন ২০০ টাকা করার দাবি বিএফএ’র


সারের প্রতি বস্তায় কমিশন ২০০ টাকা করা এবং নতুন ডিলার নিয়োগ স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)

সার বিপণন ব্যবস্থার অব্যাহত লোকসান কাটাতে সারের বিক্রি কমিশন প্রতি বস্তায় ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০ টাকা করা এবং নতুন ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত রাখার জোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)।

গত কাল ঢাকায় সংগঠনটির নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএফএ চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন এ দাবি তুলে ধরেন।

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে উপেক্ষিত কমিশন, লোকসানে ডিলাররা

আরো পড়ুন
রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি টাকার সার কিনছে সরকার
রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি টাকার সার কিনছে সরকার

রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি ৪৭ লাখ ১৪ হাজার ৮৫০ টাকার পটাশিয়াম (এমওপি) ও ডিএপি সার কেনার Read more

কক্সবাজারে জনপ্রিয় হচ্ছে লবণসহিষ্ণু ধান চাষ
কক্সবাজারে দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে লবণসহিষ্ণু ধান চাষ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মাটির লবণাক্ততা। ফলে স্বাভাবিক কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকায় Read more

সংবাদ সম্মেলনে বিএফএ চেয়ারম্যান জানান, গত ১৮ বছর ধরে ডিলাররা কমিশন বাড়ানোর দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো সুরাহা হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে জ্বালানি তেলের দাম, পরিবহন খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বারবার বাড়ায় ডিলারদের ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন:

  • ২০০৮ সালের হিসাব: ২০০৮ সালে প্রতি বস্তা সারে পরিবহন খরচ ও বিক্রি কমিশন মিলিয়ে দেওয়া হতো ১০০ টাকা। সব খরচ বাদ দিয়ে তখন ডিলারদের বস্তাপ্রতি নিট লাভ থাকত ২৫ থেকে ৩০ টাকা।

  • বর্তমান পরিস্থিতি: বর্তমানে একই খরচের কাঠামো বজায় থাকায় প্রতি বস্তা সার বিক্রি করতে গিয়ে ডিলারদের উল্টো ৫০ থেকে ৫৫ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।

যদিও সরকার সম্প্রতি বস্তাপ্রতি কমিশন ৫০ টাকা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে তা ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের আগে কার্যকর হবে না। বিএফএ চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, এই বর্ধিত ৫০ টাকা কার্যকর হলেও ডিলাররা কেবল ‘লাভ নয়, ক্ষতিও নয়’ (No profit, no loss) অবস্থায় পৌঁছাবেন। তাই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কমিশন বাড়িয়ে প্রতি বস্তায় ২০০ টাকা করা জরুরি।

ডিলারদের কমিশন না বাড়ালে তারা ধীরে ধীরে ব্যবসা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের সার সরবরাহের ওপর।

‘সার ডিলার নিয়োগ নীতিমালা ২০২৬’ ও আইনি জটিলতা

কৃষি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি জারি করা ‘সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৬’-এর একাধিক ধারাকে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, অসংবিধানিক এবং পরস্পরবিরোধী বলে দাবি করেছে বিএফএ। এই নীতিমালার বিরুদ্ধে সংগঠনটি গত ২ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।

বিএফএ জানায়, মহামান্য হাইকোর্ট বিষয়টি আইনিভাবে নিষ্পত্তির জন্য ৬০ দিনের একটি রুল জারি করেছেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, আদালতের রুল বজায় থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন জেলায় জেলা সার ও বীজ পর্যবেক্ষণ কমিটিগুলো নতুন ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় এখনো বিতর্কিত ধারাগুলো নিয়ে বিএফএ-এর সাথে কোনো আলোচনার উদ্যোগ নেয়নি উল্লেখ করে মোশাররফ হোসেন হুঁশিয়ারি দেন, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তার সমস্ত দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।

এক নজরে বিএফএ’র মূল দাবি ও তথ্যসমূহ:

বিষয়বিদ্যমান/পূর্বের অবস্থাদাবি ও বর্তমান চিত্র
বিক্রি কমিশনবস্তাপ্রতি ১০০ টাকাবাড়িয়ে ২০০ টাকা করার দাবি।
ডিলারদের বর্তমান লোকসান–প্রতি বস্তায় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা লোকসান।
সরকারি বর্ধিত কমিশন৫০ টাকা বৃদ্ধি (কার্যকর ১ জুলাই ২০২৭)অকার্যকর ও অপ্রতুল হিসেবে চিহ্নিত।
আইনি পদক্ষেপ২ সেপ্টেম্বর রিট পিটিশন দায়েরহাইকোর্টের ৬০ দিনের রুল জারি।
প্রধান দাবি–কমিশন বৃদ্ধি ও নতুন ডিলার নিয়োগ স্থগিত রাখা।

সংবাদ সম্মেলনে বিএফএ নেতৃবৃন্দ বহুল ব্যবহৃত দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডিলারদের ব্যবসা বজায় রাখার সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

0 comments on “সারের প্রতি বস্তায় ডিলার কমিশন ২০০ টাকা করার দাবি বিএফএ’র”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ