Friday, 16 October, 2026

নাবি জাতের আমের সন্ধান মিলেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়


মৌসুমের শেষে এসে আম পাওয়া যায় হাতে গোনা। প্রচলিত জাতগুলোর মধ্যে আশ্বিনা জাতের আম পাকে সবার শেষে। আগস্টে পাকা  আমের এই জাতটির মাধ্যমেই শেষ হয় গ্রীষ্মের সুমিষ্ট এ ফলের মৌসুম। মৌসুমের শেষ সময়ে আশ্বিনার পাশাপাশি আরও কয়েকটি জাত না থাকা নিয়ে আক্ষেপ অনেকের। কিন্তু আম পাওয়াযাবে সারা বছর। প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত নাবি জাতের আমের সন্ধান পেয়েছেন কৃষি গবেষকরা। সেটিও আমাদের দেশেই।

আমের জাতটি পাওয়া গেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে । আর এতে অভিভূত হর্টিকালচার সেন্টারের বিজ্ঞানীরা।  জাতটি পর্যবেক্ষণ করেছেন তারা দুই বছর ধরে। এখন এ জাত সম্প্রসারণে আগ্রহী তারা। এই আম নাবি জাত হিসেবে  মুক্তায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

নতুন জাত খুজে পাবার ইতিহাস

আরো পড়ুন
কৃষিকে লাভজনক করতে গবেষণা ও কোল্ড স্টোরেজে জোর দেওয়ার আহ্বান: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

কৃষি খাতে যেসব জায়গায় ঘাটতি রয়েছে, তা গবেষণার মাধ্যমে সমাধানের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষিকে লাভজনক করতে সরকারি সহায়তা ও Read more

রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি টাকার সার কিনছে সরকার
রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি টাকার সার কিনছে সরকার

রাশিয়া, কানাডা ও সৌদি আরব থেকে ৯৬৯ কোটি ৪৭ লাখ ১৪ হাজার ৮৫০ টাকার পটাশিয়াম (এমওপি) ও ডিএপি সার কেনার Read more

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা ইউনিয়নে একটি পারিবারিক বাগান থেকে পাওয়া যায় এই আমের জাত।  বাগানের মালিক আতিকুল এর পরিবার প্রতিবছর বাগানে মুকুল আসলে আম ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিতেন। বিভিন্ন জাতের আমগাছের পাশাপাশি পাঁচটি গাছ ছিল গুটি জাতের।

এই গুটি গাছগুলো তারা একই ইউনিয়নের কদমতলী এলাকায় তাদের দাদার ভিটাতে থাকা একটি আমের গাছ  থেকে তৈরি করেন।  গাছগুলো একটু বড় হলে, প্রচলিত আশ্বিনা বা অন্য কোনো জাতের কলম করে নেবার ইচ্ছা থাকলেও পরবর্তীতে তারা মত পাল্টান। গাছগুলোর আমের আকার ও স্বাদ ভালো হওয়ায় আর অন্য কোনো জাতে পরিবর্তন করেন নি তারা।

ল্যাংড়া বা ফজলি আম পাড়ার সময়ই ওই পাঁচটি গাছের আম পাড়া হলেও আমগুলো কাঁচা থাকত।

২০১৬ সালের দিকে আরমান নিজেই আমের ব্যবসা শুরু করলে পাশের একটি আশ্বিনার বাগান কিনে নেন। বাগানের অন্যসব জাতের আম পাড়া শেষ হলেও ওই পাঁচটি গাছের আম  রেখে দেন তিনি। এতেই বের হয়ে আসে, এটি নাবি জাতের আম।

২০১৮ সালের দিকে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের এ আমের কথা প্রথম জানতে পারেন চৌডালা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা । এরপর তিনি নিজে আমটি ওই মৌসুমে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরে তিনি বিষয়টি  তৎকালীন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহকে অবগত করেন। হাবিবুল্লাহ কয়েকদিন পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারে উদ্যানতত্ত্ববিদ হিসেবে বদলি হলেও গাছগুলো পর্যবেক্ষণে রাখেন।

হাবিবুল্লাহর সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা আমের নাবি ও আগাম জাত খুঁজে বের করার চেষ্টা করছিলেন। গোমস্তাপুরের বাগানের গাছগুলো পর্যবেক্ষণ করে আমটির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য পেয়েছেন তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক  বলেন,  নাবি জাত হিসেবে গৌড়মতি মুক্তায়িত করা হয়েছিল।  সন্ধান পাওয়া এই গুটি আমটির মিষ্টতা গৌড়মতিকেও ছাড়িয়ে গেছে। নাবি জাত হিসাবে আমটি সম্ভাবনাময় বলে তার ধারণা

আমের নামকরণ করার ক্ষেত্রে অঞ্চলের কৃষকদের জন্য ইলা মিত্রের  ত্যাগ ও ভালোবাসাকে শ্রদ্ধা জানিয়ে আমটির নাম ‘ইলামতি’ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।

0 comments on “নাবি জাতের আমের সন্ধান মিলেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ