Monday, 12 October, 2026

ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত (BRRI) ৬টি নতুন ধানের জাতের অনুমোদন


ভাতের পাতে এবার ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: অনুমোদন পেল ব্রি’র ৬টি নতুন ধানের জাত

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI)-এর ঝুলিতে যুক্ত হলো আরও ৬টি নতুন ধানের জাত। এর মধ্যে রয়েছে দেশের প্রথম উচ্চফলনশীল ‘কালো চাল’ বা ব্ল্যাক রাইস, লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাত এবং হাওর অঞ্চলের উপযোগী ঠান্ডা সহনশীল ধান। এই অনুমোদনের ফলে ব্রি উদ্ভাবিত মোট ধানের জাতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২৭টিতে।

এক নজরে নতুন ৬টি জাতের বৈশিষ্ট্য

আরো পড়ুন
কেন কমছে বাংলাদেশের ইলিশ (Ilish/ Hilsha) ? গতিপথ পরিবর্তন ও সংকটের কারণ এবং সমাধান
কেন কমছে রূপালী ইলিশ? পরিযায়ন পথের পরিবর্তন ও সংকট মোকাবিলার উপায়

বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং খাদ্য নিরাপত্তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ আমাদের জাতীয় মাছ ইলিশ। বৈশ্বিক ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৭৫ শতাংশই Read more

আড়িয়াল খাঁ নদে ২০টি অবৈধ জালের বাঁধ: মাছের প্রজনন ব্যাহত
আড়িয়াল খাঁ নদে অবৈধ জালের বাঁধ,

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী এবং নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার সীমানাঘেঁষে প্রবাহিত আড়িয়াল খাঁ নদে অবৈধ জালের বাঁধ দিয়ে নির্বিচারে মাছ শিকারের মহোৎসব চলছে। Read more

জাতের নামবিশেষ বৈশিষ্ট্যগড় ফলন (টন/হেক্টর)
ব্রি ধান ১১৫ব্ল্যাক রাইস: ভিটামিন-ই ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এটিই ব্রি’র প্রথম কালো চালের জাত।৭.৪ টন
ব্রি ধান ১১৬বোরো মৌসুমের জাত। গাছ শক্ত হওয়ায় ঝড়ে হেলে পড়ে না (Lodging resistant)।৮.৫৯ – ১০.৩৬ টন
ব্রি ধান ১১৭লবণাক্ততা সহিষ্ণু এবং ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধক। সোনালী রঙের মাঝারি দানা।৮.৬ – ৯.৯০ টন
ব্রি ধান ১১৮হাওর স্পেশাল: অধিক ঠান্ডা সহনশীল। অকাল বন্যা এড়াতে আগেভাগে বপনযোগ্য।৬.০ টন
ব্রি হাইব্রিড ৯উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য লবণাক্ততা সহিষ্ণু ও হেলে পড়া প্রতিরোধী।৬.৫ – ৭.০ টন
ব্রি হাইব্রিড ১০উচ্চফলনশীল ও হেলে পড়ে না। চাল বেশ চিকন।৯.৭ – ১০.৭ টন

নতুন উদ্ভাবনের চমক: ব্ল্যাক রাইস (ব্রি ধান ১১৫)

ব্রি ধান ১১৫ বাংলাদেশের কৃষি গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ‘অ্যানথার কালচার’ পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত এই ধানটি কেবল কালো রঙেরই নয়, এটি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এর অ্যামাইলোজ ২৩ শতাংশ।

প্রতিকূলতা জয়: লবণাক্ততা ও ঠান্ডা সহনশীলতা

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন জাতগুলো কার্যকর ভূমিকা রাখবে:

  • ব্রি ধান ১১৭ ও ব্রি হাইব্রিড ৯: উপকূলীয় অঞ্চলে যেখানে লবণাক্ততার কারণে চাষাবাদ কঠিন, সেখানে এই জাতগুলো বিপ্লব ঘটাতে পারে।

  • ব্রি ধান ১১৮: হাওর অঞ্চলের কৃষকদের জন্য এটি আশীর্বাদ। প্রজনন পর্যায়ে ঠান্ডা সহ্য করতে পারায় কৃষকরা আগেভাগে ধান বুনে অকাল বন্যার হাত থেকে ফসল বাঁচাতে পারবেন।

কৃষিতে প্রভাব

ব্রি জানিয়েছে, নতুন এই জাতগুলোসহ বর্তমানে তাদের উদ্ভাবিত ৩৯টি জাত বন্যা, খরা ও লবণাক্ততার মতো প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে সক্ষম। বিশেষ করে ব্রি হাইব্রিড ১০-এর ফলন সাধারণ ধানের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় এটি দেশের সামগ্রিক চাল উৎপাদন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে।

আপনি যদি হাওর অঞ্চলের কৃষক হন, তবে অকাল বন্যার ঝুঁকি কমাতে ব্রি ধান ১১৮ চাষের পরিকল্পনা করতে পারেন। আর উপকূলীয় অঞ্চলে লোনা পানির প্রভাব থাকলে ব্রি ধান ১১৭ হবে সেরা পছন্দ।

0 comments on “ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যুক্ত (BRRI) ৬টি নতুন ধানের জাতের অনুমোদন”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ