Monday, 02 March, 2026

বিনাইরচরের আখের গুড়ে হারানো ঐতিহ্য ফিরছে নারায়ণগঞ্জে


বিনাইরচরের আখের গুড়ে কৃষকের মুখে হাসি

এক সময় আখের গুড়ের জন্য বিশ্বখ্যাত ছিল নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের বড় বিনাইরচর ও ছোট বিনাইরচর। মাঝে আধুনিক নগরায়ন ও বিবর্তনের ফলে এই ঐতিহ্য অনেকটা হারিয়ে যেতে বসলেও, গত কয়েক বছর ধরে চিত্রটা বদলে যাচ্ছে। এখানকার কৃষকেরা আবারও ফিরে আসছেন তাদের পূর্বপুরুষের আদি পেশা আখ চাষে। মাঠেই তৈরি হচ্ছে খাঁটি ও ভেজালমুক্ত আখের গুড়, যা পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

লাভ ও খরচের হিসাব: ১ মণ গুড়ে মুনাফা দ্বিগুণের বেশি

আখ চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই চাষে বর্তমানে লাভের পরিমাণ বেশ ঈর্ষণীয়।

আরো পড়ুন
১২ লক্ষ ক্ষুদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ: মন্ত্রিসভার বড় সিদ্ধান্ত

দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি দিতে বড় ধরনের স্বস্তির খবর দিয়েছে সরকার। সুদসহ ১০ হাজার টাকা Read more

মাছ ও চিংড়ি চাষে ঘের বা পুকুর এ ব্লিচিং পাউডার
'ডিসইনফেক্ট্যান্ট' বা জীবাণুনাশক

মাছ ও চিংড়ি চাষে ঘের বা পুকুর প্রস্তুতিতে ব্লিচিং পাউডার একটি অপরিহার্য উপাদান। এটি মূলত একটি শক্তিশালী জীবাণুনাশক, যা পানির Read more

বিবরণখরচ/মূল্য (আনুমানিক)
১ মণ গুড় তৈরির খরচ৩,৫০০ টাকা
১ মণ গুড়ের বাজারমূল্য৮,০০০ টাকা
বিঘাপ্রতি উৎপাদন খরচ৫০,০০০ – ৬০,০০০ টাকা
বিঘাপ্রতি বিক্রয়মূল্য১,০০,০০০ – ১,২৫,০০০ টাকা

ঐতিহ্য বনাম আধুনিকতা

আড়াইহাজারের বড় বিনাইরচর ও রূপগঞ্জের জাঙ্গীর, দাউদপুর ও হাটাবো এলাকায় এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম জানান, পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার এই পেশায় সহযোগিতা করে ভালো লাভ দেখছেন তারা। তবে আব্দুল মোমেনের মতো কৃষকেরা কিছুটা শঙ্কিত। তাদের মতে, ক্রমবর্ধমান শিল্পায়নের ফলে কৃষিজমি কমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আখ চাষের জন্য বড় হুমকি হতে পারে।

কৃষি বিভাগের তথ্য ও উদ্যোগ

নারায়ণগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ১৩৬ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে, যার মধ্যে আড়াইহাজারেই রয়েছে ১২০ একর।

  • জাত: এখানে মূলত উচ্চফলনশীল ‘মিশ্রিমালা’ জাতের আখ চাষ করা হচ্ছে।

  • পরামর্শ: রূপগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা জানান, আখের সঙ্গে সাথী ফসল হিসেবে অন্য সবজি চাষ (মিশ্র পদ্ধতি) করলে কৃষকেরা আরও বেশি লাভবান হতে পারেন।

  • চ্যালেঞ্জ: আড়াইহাজার উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাসেল মিয়া জানান, বর্তমানে শেয়ালের উপদ্রব আখ চাষের একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা মোকাবিলায় তারা কাজ করছেন।

কেন বিখ্যাত নারায়ণগঞ্জের এই গুড়?

কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, “আমাদের গুড়ে কোনো কেমিক্যাল বা ভেজালের সুযোগ নেই। বাপ-দাদার আমল থেকে যেভাবে খাঁটি গুড় তৈরি করা শিখেছি, সেভাবেই করছি। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসে মাঠ থেকেই গুড় কিনে নিয়ে যায়।”

 শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত হলেও নারায়ণগঞ্জ যে তার কৃষি ঐতিহ্যকেও সমান তালে এগিয়ে নিতে পারে, আখের এই বাম্পার ফলন ও গুড় উৎপাদন তারই প্রমাণ। সঠিক সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হলে এই গুড় বিদেশের বাজারেও জায়গা করে নিতে পারবে।

0 comments on “বিনাইরচরের আখের গুড়ে হারানো ঐতিহ্য ফিরছে নারায়ণগঞ্জে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ