Monday, 28 September, 2026

বিদ্যুৎ বিভ্রাটঃ আলুর মান রাখতে হিমসিম খাচ্ছে হিমাগার মালিক


চার টাকা কেজি দরে আলু বিক্রয় হচ্ছে

বিদ্যুৎ বিভ্রাটঃ আলুর মান রাখতে হিমসিম খাচ্ছে হিমাগার মালিক। লোডশেডিংয়ে বিপাকে বগুড়া অঞ্চলের ৫৬ হিমাগার মালিক, বগুড়া ও জয়পুরহাটের অর্ধশতাধিক হিমাগারে প্রতিদিন ১০–১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। তাতে জেনারেটরে সচল রাখতে হচ্ছে এসব হিমাগার। বিদ্যুৎ না পেয়ে আলুর মান ধরে রাখতে বাধ্য হয়ে জেনারেটরের মাধ্যমে হিমাগারগুলো সচল রাখতে হচ্ছে।

হিমাগারের মালিকেরা বলছেন, বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে ডিজেলচালিত জেনারেটরে হিমাগার চালু রাখতে গিয়ে দিনে তাঁদের এক লাখ টাকার বেশি বাড়তি খরচ হচ্ছে। তাতে ৫৬টি হিমাগারে দিনে বাড়তি খরচ লাগছে প্রায় ৬০ লাখ টাকা। এত বাড়তি খরচ দিয়ে আলু সংরক্ষণ করা তাঁদের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বগুড়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া ও জয়পুরহাটে গত উৎপাদন মৌসুমে ৯৪ হাজার ৩১৫ হেক্টর জমিতে ২১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে দুই জেলার ৫৬টি হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন।

আরো পড়ুন
পুষ্টিগুণে অনন্য ‘ব্রকলি’: সঠিক চাষ পদ্ধতি ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ব্রকলি চাষের সঠিক ও আধুনিক পদ্ধতি

বাংলাদেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার নাম ‘ব্রকলি’। দেখতে সবুজ ফুলকপির মতো এই সবজিটি অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন এবং সুস্বাদু। একসময় ব্রকলি কেবল Read more

তীব্র সার সংকট, পথ অবরোধ, তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রের চরে রেকর্ড আগাম চাষাবাদ

চলতি বছর রংপুর অঞ্চলে প্রধান প্রধান নদ-নদীতে বড় ধরনের কোনো বন্যা না হওয়ায় চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়নি। Read more

লোডশেডিং শেষে বিদ্যুৎ আসার পর হিমাগারের শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র পুরোপুরি সচল করতে কমপক্ষে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হওয়ায় মেশিনই ঠিকমতো চালু করা যাচ্ছে না বলছেন পরিমল প্রসাদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক , আরবি স্পেশালাইজড কোল্ডস্টোরেজ।

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পুনট কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার ঘোষ জানান, গত মঙ্গলবার সব মিলিয়ে পৌনে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং ছিল। আর বুধবার লোডশেডিং ছিল ১২ ঘণ্টা ২৫ মিনিটের। বিপ্লব কুমার ঘোষ বলেন, তাঁদের হিমাগারে বর্তমানে ২ লাখ ৮৪ হাজার বস্তা (প্রতি বস্তায় ৬০ কেজি) আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। এসব আলু যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য জেনারেটরের মাধ্যমে হিমাগার সচল রাখা হচ্ছে। তাতে প্রতিদিন গড়ে এক লাখ টাকার বেশি বাড়তি খরচ হচ্ছে জ্বালানি বাবদ। অথচ ৬০ কেজি ওজনের এক বস্তা আলু সংরক্ষণ ভাড়া ৩০০ টাকা। এভাবে জেনারেটর চালু রেখে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করতে গেলে খরচ দ্বিগুণ বেড়ে যাবে।

0 comments on “বিদ্যুৎ বিভ্রাটঃ আলুর মান রাখতে হিমসিম খাচ্ছে হিমাগার মালিক”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ